ইজিবাইক বন্ধ নয়, আধুনিকায়ন

Easybyke
বাংলানিউজ ॥
ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক বন্ধ নয়, আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালিত হবে ইজিবাইক। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চার্জ প্রদান বন্ধে কারিগরি পরিবর্তন আনা হবে ব্যাটারিতে।
বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা জানান, এনবিআর’র হিসেব মতে দেশে প্রায় ৪ লাখ ইজিবাইক রয়েছে। এর সঙ্গে সাধারণ যাত্রীর স্বাচ্ছন্দ চলাচল ও কয়েক লাখ চালকের জীবিকা সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।
সরকার জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ইজিবাইক বন্ধ না করে এর আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্যই কারিগরি পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান জ্বালানি উপদেষ্টা।
তৌফিক ই-ইলাহী বলেন, ইজিবাইকে যেহেতু বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাই একে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৫ বিভাগে ৫টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন বসানো হবে। এসব স্টেশন থেকে ইজিবাইকে চার্জ দেয়া যাবে।
পাইলট প্রকল্পের পাশাপাশি থাকবে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি টিম। টিমের সদস্যরা যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজিবাইকের আধুনিকায়নে কাজ করবেন।
পরীক্ষামূলক এ প্রকল্প সফল হলে পযার্য়ক্রমে সারাদেশে বেসরকারি অথবা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন বসানো হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ইজিবাইকে সাধারণ ১০০ ওয়াটের ডিসি টাইপের মোটর ব্যবহার করা হয়। আর এই মোটর চালানোর জন্য ৫টি ১২ ভোল্ট, (১২০ এম্পিয়ার আওয়ারের) লিড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়।
২২০ ভোল্ট এসি গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহারে এসব ব্যাটারিতে চার্জ করা হয়। এতে দৈনিক ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে যেন আর বিদ্যুৎ নিতে না পারে সেজন্য ইজিবাইকের ব্যাটারি ডিসি ভোল্ড চার্জিং সিস্টেমে কনভার্ট করা হবে।
কারিগরি কমিটি জানিয়েছে, ১০০টি ইজিবাইকে চার্জ দিতে ১১২.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। আর এই ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসাতে হলে প্রয়োজন ৩ কোটি টাকা।
প্রতিটি ইজিবাইক থেকে দিনে ১শ টাকা হারে আদায় করলেও, দৈনিক (দুই শিফটে) দুইশ’টি ইজিবাইক থেকে আয় হবে ২০ হাজার টাকা। এ হিসেব ধরে বার্ষিক আয় দাঁড়াবে ৭৩ লাখ টাকা। আর এ আয়ে মাত্র ৪ বছরেই বিনিয়োগ উঠে আসবে।
সূত্র জানায়, ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য হিসেব ধরলেও সর্বোচ্চ ৫ বছরেই এ বিনিয়োগ উঠে আসবে। অন্যদিকে, সোলার প্যানেলের স্থায়িত্বকাল কমপক্ষে ২০ বছরের।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের খরচ হওয়ার কারণেই ইজিবাইক আমদানী বন্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ইজিবাইকের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
আর এ কারণেই ইজিবাইক নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বান করা হয়।

শেয়ার