অভিযুক্তের পক্ষে চেয়ারম্যানের সাফাই ॥ দাকোপে দুর্নীতিগ্রস্ত মেম্বর বিকাশ উন্নয়ন কাজের ইট বিক্রি করে ফের আলোচনায়

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বিকাশ বৈরাগীর বিরুদ্ধে ফের উন্নয়ন প্রকল্পের ইট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়ারম্যানের সহায়তায় গোপন আপোষ-রফা হয়েছে। বহুলালোচিত এই মেম্বরের সকল দুর্নীতি অনিয়মের তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের অধীন অচিন্ত্যের মিল হতে তিলডাঙ্গা শ্মশানকালী মন্দির অভিমুখে ১৫ চেইন রাস্তা ইট সোলিংয়ের উন্নয়ন কাজ চলমান। ইউনিয়নের এল জি এস পি প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দের এই কাজটি ৩ ভাগে বিভক্ত। যার একটি অংশের কাজের প্রকল্প সভাপতি বহুলালোচিত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য বিকাশ বৈরাগী। সুত্র মতে কাজ চলমান অবস্থায় বিকাশ বৈরাগী রাস্তার কাজে ব্যবহ্নত দেড় হাজার ইট জনৈক তপন বৈরাগীর কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। তপন রাস্তা থেকে ওই ইট বাছাই করে নিজ হেফাজতে নিলে এলাকাবাসীর টনক নড়ে। তারা বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করে। গত ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিন পরিষদে বসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিক্রিত ইট নিজ হেফাজতে নিয়ে মুচলেকা গ্রহনের মাধ্যমে বিষয়টি আপোষ-রফা করে। পরিষদের সিদ্ধান্তে পুলকেষ কবিরাজ এবং বিমল চৌকিদার ওই ইট হেফাজাতে নেয় বলে তারা জানায়। কিন্তু দূর্নীতিবাজের পক্ষ নিয়ে চেয়ারম্যানের করা এই আপোষের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করে। তারই অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদক সরেজমিন গেলে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসে। একই কাজের অপর দু’অংশের প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য কনিকা গোলদার ও বিকাশ রায় অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিষদে গতকাল মুচলেকা গ্রহনের মাধ্যমে বিষয়টির একরকম নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই পরিষদের অপরাপর ইউপি সদস্য গাজী হাশেম আলী, অগ্রদূত রায় (টিকেন), নারায়ন রায় উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের পরিষদের সদস্য, সুতরাং আমরা বেশী কিছু বলতে পারিনা। উল্লেখ্য অভিযুক্ত বিকাশ বেরাগী ইতিপূর্বে টি আর প্রকল্পে বুড়ির ভিটা শিব মন্দির সংস্কার কাজের অর্থ আতœসাত করে ফেঁসে যায়। ওই ঘটনায় মন্দির কমিটির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হয়। যে ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ০৪/০৮/১৩ তারিখ বিকাশ বৈরাগী ওই প্রকল্পের ৩৩ হাজার ৮০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে টি আর প্রকল্পে অচিন্ত্যের বাড়ী হতে রায় বাড়ী অভিমুখে রাস্তা নির্মান কাজে অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। কিন্তু বিভিন্ন সময় ওঠা অভিযোগ অজ্ঞাত কারনে চেয়ারম্যানের সহায়তায় পার পেয়ে যায় বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিনে নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযুক্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ইট বিক্রির বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির সুত্রে ঘটেছিল সেটি মিটে গেছে। পরিষদে দেখা না পেয়ে মোবাইলে অভিযুক্ত বিকাশ বৈরাগীর নিকট অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

শেয়ার