৫ দিনের ব্যবধানে দু’বারে ৬ দিন হরতাল যশোরে সবজি নিয়ে বিপাকে কৃষক

Sobji
তবিবর রহমান॥
৫ দিনের ব্যবধানে দু’দফায় ৬ দিনের হরতালে শীতকালীন সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন যশোরের চাষীরা। দেশের বিভন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা সবজি কিনতে না আনা আসায় তাদের মাথায় হাত উঠেছে।
জানা যায়, সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত যশোরের চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, পোলতাডাঙ্গা এলাকার মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন শিম, কপি, মুলা ও বেগুনসহ শীতকালীন সবজি। এঅঞ্চলের কৃষকরা সকালে সবজি তুলে স্থানীয় মোকাম যশোর সদরের বারীনগর বাজারে নিয়ে আসেন। আর বারীনগর বাজার থেকে ট্রাকে করে পাইকাররা নিয়ে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক হেমায়েত হোসেন বলেন, যশোরের সবজি দেশের চাহিদার ৫০ ভাগ পূরণ করে। কিন্তু ৫দিনের ব্যবধানে টানা ৬দিন হরতালে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এখানকার কৃষক। তারা ক্ষেত থেকে সবজি তুললেও পাইকার না আসায় বিক্রি করতে পারছেন না। এতে কৃষকরা যেমন দাম কম পায় তেমনি ভোক্তাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হয়।
বারীনগরে বাজারের ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম জানান, যশোরের এ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ৪০ ট্রাক সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার হরতালে বাজারে সবজি এলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র এক ট্রাক। উপায় না পেয়ে কৃষকরা কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে সবজি বিক্রি করেছেন।
এ বাজারে কথা হয় সবজি চাষী হাসান আলীর সাথে। তিনি জানান, হরতালের কারণে শহরের বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা দাম পাচ্ছে না। মঙ্গলবার বারীনগর মোকামে ৪০ টাকার শিম বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, ৩০ টাকার বেগুন ২৫ টাকা, ৬০ টাকার মরিচ ৫০ টাকা, ২৫ টাকার ফুলকপি ২০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। একের পর এক হরতালের কারণে কমদামে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে হরতালের দিন সাধারণ রাতে সবজি বোঝাই ট্রাক রাতে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রওনা দেয়। কিন্তু টানা হরতাল হলে ট্রাক ভাড়া পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও ১৫ হাজার টাকা ভাড়া হলে নেয়া হয় দ্বিগুন। আবার পথে পথে ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়। এতে করে ব্যবসায়ীরাও সবজি কিনতে আসছে না। ফলে কৃষকের সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে।

শেয়ার