হরতালে সহিংসতায় নিহত ৪

বাংলানিউজ॥ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দ্বিতীয় দফা টানা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথমদিন সোমবার হরতালজনিত কারণে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে একজন, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়াতে একজন, চট্টগ্রাম শহরে একজন ও নাটোরের গুরুদাসপুরে একজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন যুবদল কর্মী, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হরতালকারীরা সড়ক অবরোধের জন্য গাছ কাটার সময় এর নিচে চাপা পড়ে একজন, চট্টগ্রামে পিকেটারদের ধাওয়ায় যাত্রীবাহী একটি টেম্পু উল্টে গেলে এর এক যাত্রী এবং নাটোরের গুরুদাসপুরে কৃষি শ্রমিক বহনকারী তিনটি ট্রাককে হরতালকারীরা ধাওয়া দিলে একজন নিহত হন।
লালমনিরহাট ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট খোরশেদ আলম সাগর জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা ব্রিজ এলাকায় সোমবার সকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষে নাসির হোসেন (২২) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি, নিহত নাসির ছাত্রদলের একজন কর্মী।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার প্রণব কুমার দাস নাসিরের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে সকালে পিকেটারদের ধাওয়ায় যাত্রীবাহী একটি টেম্পু উল্টে গেলে মো. জাকির (৩০) নামে তৈরি পোশাক কারখানার এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
প্রত্যদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার সময় চান্দগাঁও থানার বহদ্দার হাট-কালুরঘাট সড়কের শরাফত উল্লাহ পেট্রোল পাম্পের সামনে টেম্পুটি উল্টে যায়।
নিহত জাকির খুলশী থানার দামপাড়া ১ নম্বর গলির বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে। তিনি কালুরঘাট সিঅ্যান্ডএ গ্রুপের কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক হামিদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, কালুরঘাট কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চলন্ত টেম্পুটিকে পিকেটাররা ধাওয়া দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি উল্টে যায়। এতে ওই টেম্পুতে থাকা যাত্রী মো. জাকির গুরুতর আহত হন।
পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নেত্রকোনা জেলা করেসপন্ডেন্ট আয়নাল হক জানান, কেন্দুয়া উপজেলায় অবরোধকারীদের কাটা গাছের চাপায় আব্দুস সালাম (৪০) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে।
আহত শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ছয়টার দিকে রামপুর-বেখৈরহাটী সড়কের রামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সালামের বাড়ি উপজেলার দলপা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে রামপুর-বেখৈরহাটী সড়কে হরতালকারীরা রাস্তা অবরোধের জন্য গাছ কাটছিলেন। এ সময় পথচারী সালাম তার ছেলেকে নিয়ে গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ গাছের একটি ডাল তাদের ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই সালামের মৃত্যু হয় এবং শিশুটি গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অবরোধকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অবরোধের জন্য পিকেটাররা ওই গাছ কাটছিলেন কিনা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
নাটোর থেকে ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট স্বপন দাস জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকায় সকাল ছয়টার দিকে পিকেটারদের ধাওয়ায় ইসাহাক মোল্লা (৩৫) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় নাটোর জেলা জাসদের যুগ্ম সম্পাদক ডিএম আলমগীরও আহত হয়েছেন।
তবে পুলিশ এ ঘটনাকে অস্বীকার করে বলেছে, ধাওয়ায় নয়, দুর্ঘটনায় ইসাহাক মোল্লার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ইসাহাক মোল্লা সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার দণি মথুরাপুর গ্রামের মৃত খইমুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, সকাল ছয়টার দিকে ৩০/৪০ জনের একদল কৃষি শ্রমিক সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকার হাটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হরতাল সমর্থকরা ট্রাকটিকে ধাওয়া করে।
ট্রাক থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ইসাহাক মোল্লা আহত হন। অন্যান্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
অপরদিকে, পিকেটারদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ট্রাকের কাচ ভেঙে জেলা জাসদের যুগ্ম সম্পাদক ও বড়াইগ্রাম উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ডিএম আলমগীর আহত হন। এ ছাড়াও ইট-পাটকেলের আঘাতে তিনটি ট্রাক তিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ডিএম আলমগীর অভিযোগ করেন, ঢাকা থেকে একটি ট্রাকে করে তিনি বড়াইগ্রামে ফিরছিলেন। তাকে বহনকারী ট্রাকসহ ৩/৪টি ট্রাককে পিকেটাররা ধাওয়া দিলে সবাই নেমে পালাতে গেলে ইসাহাক মোল্লা আহত হন। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।

শেয়ার