পূজা একদিন উৎসব পাঁচ দিনের

kalipuja
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
শ্যামা পূজা একদিনের হলেও যশোরে চলছে পাঁচদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসব । বর্ণিল রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতীমা, মন্ডপ ও বিশাল বিশাল তোরণ। শনিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দশনার্থীদের ঢল নামছে মন্ডপে মন্ডপে। এই উৎসব চলবে আগামিকাল বুধবার পর্যন্ত। এতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বান্ধব নিয়ে মানুষ সন্ধ্যার বের হয়ে মন্ডপের পর মন্ডপ ঘুরে দেখছেন। দর্শনার্থী ও ভক্তদের দৃষ্টি আকষর্ণের জন্য আনন্দ উৎসবের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে আয়োজকরা। ফলে একদিনের পূজাকে পাঁচ দিনের পরিধিতে রূপ নিয়েছে। এ উৎসবে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিষে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে
শহরের কয়েকটি মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে আয়োজকদের চমক। স্বতন্ত্র চিন্তাধারণা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মন্ডপ ও তোরণ। আর বর্ণিল আলোক সজ্জায় উপস্থাপন করা হয়েছে মন্ডপের দৃশ্য। বহুরূপী আলোর খেলায় আকর্ষণ করছে দর্শকদের।
শহরের বেজপাড়া সুধীর ঘোষ স্মৃতি পরিষদ এবার মন্ডপ তৈরি করেছে সোনালী রঙের হার্ডবোর্ড দিয়ে। প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার এই মন্ডপে বর্নিল আলো প্রক্ষেপনের মাধ্যমে উপস্থান করা হচ্ছে। প্রতীমা ঘিরে রয়েছে আলোর খেলা।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য প্রদীপ ঘোষ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চমক রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এ আয়োজন থাকবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতি রাতে মানুষের ঢল নামছে মন্ডপে।
শহরের নিউ বেজপাড়ার স্বপন স্মৃতি পরিষদ এবার তাদের মন্ডপে এনেছে ভিন্নতা। গতবার ধানের প্রতীমা তৈরি দর্শকদের নজর কাড়ে। এবার ভিন্ন চমক এনেছে তারা। এবার মন্ডপের মুল ফটক তৈরি করা হয়েছে বিশাল বটবৃক্ষের আদলে। পুরো বটবৃক্ষের বৃট চিরে ফটক দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতীমা দর্শন করছেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।
স্বপন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি যোগেশ দত্ত জানান, দর্শকদের নজর কাড়তে প্রতিবছর ব্যক্তিক্রমী আয়োজন করা হয়। এবার আমাদের থিম বিশাল বটবৃক্ষের পাদদেশে মায়ের পূজা করা। সেই আদলেই মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে।
শ্রীধর পুকুর পাড়বাসীর আয়োজন প্রতি বছরের মত এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। এই মন্ডপটি প্রায় ১০ ফুট উচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। বিশাল একটি মুখোশের সিঁড়ির মধ্যে দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হচ্ছে প্রতীমা দেখার জন্য। পাহাড়ের পাদদেশের আদলে মন্ডপটি নির্মিত হয়েছে।
এদিকে বেজপাড়া বয়েক কাব বাঁশের কারুকাজে নির্মাণ করেছে বিশাল তোরণ। অন্ধকারে বণিল আলোতে উদ্ভাসিত হচ্ছে সমগ্র এলাকায়। এটি দর্শনার্থীদের নজরে আসছে সহজেই।
বেজপাড়া নিউ গয়ারাম সড়কে মাদুর ( মিলের পাটি) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সুউচ্চ তোরণ। এই তোরণের ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান বাংলার নানা দৃশ্য। এছাড়াও অন্যান্য মন্ডপগুলোতে চলছে বর্ণিল আলোর উৎসব।
যশোর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু বলেন, শ্যামা পূজা একদিনে হলেও যশোরে ব্যাপক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে আয়োজকরা দশনার্থীদের আনন্দ দেয়ার জন্য উৎসব আয়োজনের পরিধি একটু বর্ধিত করে থাকেন। গত ২ নভেম্বর শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পাঁচ দিনের উৎসব শেষ হবে ৬ নভেম্বর।
তিনি আরও বলেন, সকল ধর্মের মানুষের পদচারণায় মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে মন্ডপগুলো। সন্ধ্যার পর থেকে মানুষের ঢল নামছে। সৌহাদ্য পূর্ণ পরিবেশে উৎসব হচ্ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।

শেয়ার