শিশুদের দিয়ে সহিংসতা

শিশুরা কমল হৃদয়ের। শিশুর প্রয়োজন মায়া-মমতা- স্নেহ দিয়ে বড় করে তোলা। বিশেষ করে যারা পরিবার ছাড়া ও পথশিশু তারা সমাজের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারলে মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের কল্যাণে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এভাবেই সমাজ বিকাশ লাভ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিরোধী রাজনীতিকরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে। বিষয়টি অবশ্যই পীড়াদায়ক ও বেদনাবিধুর। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য হরতালের নামে শিশু-কিশোরদের সহিংসতায় নামানো হচ্ছে। জীবনঘাতী বোমা তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের হাতে। এতদিন শিশু-কিশোরদের দিয়ে গাড়িভাঙ্গা, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বিরোধী দল। এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জীবন ধ্বংসকারী বোমা তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের হাতে। একটি বোমা ছুড়লে পাঁচ শ’ টাকা পাওয়া যাবে এই লোভে তারা বোমা ফাটাতে উৎসাহী হয়। বর্তমানে যে সব হরতাল হচ্ছে তাতে সহিংসতায় হতাহত হচ্ছে অনেকে। আর বোমাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিগত ৬০ ঘণ্টার হরতালের সময় বিরোধীদলীয় একজন কর্মী সুমন নামের এক শিশুকে প্রধান বিচারপতির বাসার সামনে বোমা ছুড়ে মারতে বলে। বিনিময়ে তার টাকা পাওয়ার কথা। শিশুটি প্যান্টের পকেটে বোমাটি বহন করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পকেটেই সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার একটি হাত ক্ষতবিক্ষত হয় এবং পেটের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারে বিরোধী দলের এক কর্মী এই প্রাণঘাতী কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল তাকে। এই ধরনের কাজে অনেক শিশুকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা সভ্য সমাজে কোনমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে শিশুটি খেলাধুলা বা পড়ালেখা করে সময় কাটানোর কথা তাকে দিয়ে সহিসংতা করার প্রবণতা বিরোধী দল করছে। সমাজ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যে শিশু এখন টাকার লোভে বোমা মারছে তারা বড় হয়ে সন্ত্রাসী তৈরি হবে। এই শিশু-কিশোররা ক্ষমতার পালাবদলের হাতিয়ার হতে পারে কিন্তু সমাজের জন্য এরা এক একটি দানবে পরিণত হবে। না হয় বোমা বহন করতে গিয়ে প্রাণ হারাবে। বর্তমানে হরতালের সময় শিশুদের পিকেটারের ভূমিকায় দেখা গেছে অধিকহারে। সামান্য টাকার লোভে শিশু-কিশোর পিকেটাররা জ্বালাও- পোড়াও করছে। এতে দেশের ও ব্যক্তিগত সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটছে। শিশু-কিশোররা ভোটার নয়। তারা জানে না কার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কি। ক্ষমতার লোভে তান্ডব চালিয়ে বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় এবং ক্ষমতায় গিয়ে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদশালী হতে চায়। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থায় অস্থিরতার সৃষ্টি করে। শিশু-কিশোরদের দানবে পরিণত করার পথ দেখিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে সুখকর কিছু করা সম্ভব নয়। তাই শিশু-কিশোরদের সহিংসতায় ব্যবহার করার কাজ থেকে বিরোধী দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এরাই একদিন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দেবে। রাজনীতির অঙ্গনে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব তৈরির প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে না এলে এই দানবরাই একদিন তাদের স্রষ্টাদের পতন ঘটাবে; যা কখনও সুখকর হতে পারে না। তাই আমাদের সহিংস হরতাল সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার