কঠিন চ্যালেঞ্জের কৃষ-থ্রি

Hrittiq
বাংলানিউজ ॥
সুপারহিরো নিয়ে চলচ্চিত্র এ পর্যন্ত কম হয়নি। তবে সবগুলো সুপারহিরোই গল্প বা উপন্যাস থেকে উঠে আসা। সিনেমাতে জন্ম নেয়া একমাত্র সুপারহিরো বলিউডের কৃষ। জনপ্রিয় এ সিরিজটি শুরু হয়েছিল ‘কই মিল গায়া’ দিয়ে। এবারের দিওয়ালি উপলক্ষে বলিউডে মুক্তি পেয়েছে কৃষ সিরিজের নতুন সিনেমা ‘কৃষ থ্রি’।

কৃষ চরিত্রে অভিনয় করছেন হৃত্বিক রোশান। কৃষ নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি ভাষান্তারিত করে প্রকাশ করা হলো।

প্রশ্ন: আপনি সুপারহিরো সিরিজের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। একই ধরণের চরিত্রে ঘুরে ফিরে অভিনয় একঘেয়েমি লাগে না?

হৃত্বিক: এ ধরণের চিন্তা করে আমি সময় নষ্ট করি না। কারণ এটা শুধুই একটা চলচ্চিত্র। এটা ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ বা ‘অগ্নিপথ’ এর মত। আমি সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করেই এ পর্যন্ত এসেছি। এ ধরণের কথা বলার কোনো কারণ নেই। আমি টাইপকাস্ট নই। ‘কই মিল গায়া’ থেকে শুরু করে ‘কৃষ থ্রি’র সব গল্পই আমি উপভোগ করেছি। এখানে আমি তিনটি চরিত্রে কাজ করেছি। কৃষ মাস্ক এবং ক্যাপ পরে শেষ রাতে জঙ্গলের গাছের মধ্য দিয়ে উড়ে উড়ে শহরে যাওয়া, তারপর এভাবেই কয়েক ঘণ্টা রোহিতের (কই মিল গায়া-তে হৃত্বিকের চরিত্র) মধ্যে কাটানো …. এসব ছিল দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জিং। আবার রোহিতের অস্তিত্বকে সাত বছর পরে ফিরিয়ে আনা, একটা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং অরক্ষিত একটা মানুষের চরিত্রে কাজ করাটা ছিল কঠিন। পরবর্তীতে একজন মানষিক প্রতিবন্ধীর পিতার অভিনয় ছিল চ্যালেঞ্জের। আর সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের ছিল কৃষ থ্রি। রোহিত যদি ভুল করতেন, সিনেমাটাও ভুলদিকে যেত। কারণ রোহিত হচ্ছেন সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র।

প্রশ্ন: সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় আপনাকে শারিরীকভাবে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কখনো কি এ নিয়ে হাল ছেড়ে দেয়ার কথা ভেবেছিলেন?

হৃতিক: আমাদের সবারই সমস্যা আছে। আমি অন্যদের গুণকীর্তন করছি না। আসলে সবারই সংগ্রাম ও পরিশ্রমের গল্প আছে। ফলাফলটা কি তা হচ্ছে ব্যপার। এসব পরিশ্রমের ফলাফল কি? আমাকে প্রচুর শারিরীক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ কারণেই সিনেমাটি ভালো একটা জায়গায় যাবে। পরিশ্রমের বিষয়গুলো আমি অতিক্রম করেছি। ভেবেছি, হতে পারে একসময় সিনেমাটি মুক্তির পর সুনাম করবে। তখন আমি আমার এই কঠিন যাত্রা নিয়ে বলব। তাই এখন, পরিশ্রমটা মুখ্য নয়।

প্রশ্ন: সিনেমাটি করার সময়কার কোন বিষয়টা মাথায় মধ্যে গেঁথে আছে?

হৃতিক: এ কথাটাই যে আমি এবং বাবা (রাকেশ রোশান) দুজনই এ সিনেমাটি বানাতে গিয়ে ‘ঝুকি’র মুখে পড়েছি। হতে পারে টাকা নিয়ে আমরা সেরা সিদ্ধান্তটা নিইনি। কারণ কাজ শেষ করতে আমরা নিজের পকেট থেকে খরচ করে না করতে পারতাম। আমরা হয়তো টাকা বানাতে পারিনি তবে এটা বুঝেছি যে আমরা যা করেছি এটা একটা সেবা। যদি আমরা না পারতাম, তবে অন্যরা করতে পারত না। সিনেমা কখনো কখনো ব্যবসার চেয়েও বেশি কিছু। এই সিদ্ধান্তটি আমাকে আর বাবাকে দৃঢ় করেছে। আমি খুশি যে আমরা এমন কিছু করার সুযোগ পেয়েছি যেটা অন্যরা পাশ কাটিয়ে চলে। আমি গর্বিত যে এটা সম্পূর্ণ একটা ভারতীয় সিনেমা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সবগুলো স্পেশাল ইফেক্ট শট আমরা ইন্ডিয়াতেই নেব। সুতরাং এটা প্রথম এবং সম্পূর্ণ দেশিয় অধিক বাজেটের ভিএফএক্স সুপারহিরো সিনেমা। আমাদের প্রতিভা আছে। বাইরে থেকে কোনো সুপারভাইজর আমাদের নিইনি। বাইরে কোনো স্টক পাঠানোও হয়নি। সবকিছুই এখানে করা হয়েছে, এখানকার মানুষ দিয়েই । আমি এবং আমার বাবা সব তত্ত্বাবধান করেছি।

প্রশ্ন: শুটিং চলার সময় এমন কোনো মুহুর্ত কি হয়েছে যখন বলেছেন ‘না, আর কখনোই করব না!

হৃতিক: আসলে এমন অনেকবারই হয়েছে। কিন্তু প্রতিটা আলাদা সময় আপনাকে এমন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে যে বড় পর্দা আপনার মনে পড়ে যাবে। আর আপনি জানেন কী আপনার লক্ষ্য? তাই লক্ষ্যটা পছন্দ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নয়তো পথচলা কঠিন হয়ে পড়বে। বড় পর্দা খুবই শক্তিশালী। আপনি জানেন আপনি এমন কিছু করছেন যেটা পৃথিবীকে কিছু একটা দেবে।

প্রশ্ন: সিনেমার কথাতে ফিরে আসি। আপনার বাবাকে একজন পরিচালক হিসেবে কীভাবে দেখছেন?

হৃতিক: আমি এটা ভেবে শিহরিত যে ভারতীয় সিনেমা কী করত যদি বাবা বেঁচে না থাকত। আমি বোঝাতে চাচ্ছি, বলিউডে কোনো সুপারহিরো কিংবা এলিয়েন নিয়ে সিনেমা হত না। যখন আমার বাবা এলিয়েন নিয়ে সিনেমা বানালেন, তার বন্ধুরা বলল তিনি পাগল হয়ে গেছেন। যখন ক্যাপ এবং মাস্ক ওয়ালা সুপারহিরো বানালেন, তারা বলল তিনি পুরোটাই পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি ভারতীয় সিনেমার পতাকাবাহক। হ্যাঁ, তিনি একটা পুরনো স্কুল থেকে এসেছেন। কিন্তু তিনি নিয়মিতই শিখেছেন। দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এখানে আছেন। এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রজন্মের চোখ দিয়ে জীবন এবং সিনেমাকে দেখতে। তিনি একজন নিরব পর্যবেক্ষক এবং সবসময় বিকশিত হচ্ছেন। এটাই তার মাহাত্ম্য।

প্রশ্ন: আপনি একবার বলেছিলেন, আপনার পিতা একজন সুপারহিরো…

হৃতিক: সব ছেলেই চায় বাবার মত হতে। আর আমার বাবা যে মূল্যবোধ নিয়ে চলেন, সেটাকে আমার কাছে একজন সুপার হিরোর কাছাকাছি মনে হয়। কৃষ থাকত না, যদি তার চিন্তায় না আসত। আমি শুধুই রঙ। আর তিনি চিত্রশিল্পী।

প্রশ্ন: আপনার সন্তান রিহান ও রিদ্ধানের কাছে কি আপনি সুপার হিরো?

হৃতিক: একজন বাবা হওয়াটাই সুপারহিরো হওয়ার সবচেয়ে বড় এবং সেরা সুযোগ। আদেশ দিয়ে নয় উদাহরণ দিয়ে শিখিয়ে সন্তানকে অনুপ্রাণিত করা যায়। আমি নিয়মিত তাদেরকে কিছু বলার, করার, ভাবার সুযোগ দিচ্ছি। এখানে কগুলো বিষয় আছে।

শেয়ার