এবারের সাফল্যকেই এগিয়ে রাখছেন মুশফিক

CRICKET-BAN-NZL
সমাজের কথা ডেস্ক॥
নিউ জিল্যান্ডকে টানা দুটো ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচে হারানোর আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ দল। সিরিজ সেরার পুরস্কার জয়ী মুশফিকুর রহিমের মনে তো বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। অধিনায়ক হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবারের সাফল্যকে এগিয়ে রাখছেন তিনি।
রোববার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে চার উইকেটে শেষ ওয়ানডে জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, “দুটি সিরিজ জয়ের অনুভূতিই অসাধারণ। তবে অধিনায়ক থাকায় এবারেরটাকে আমি এগিয়ে রাখবো। একবার সাফল্য পাওয়া সম্ভব, কিন্তু তার পুনরাবৃত্তি খুব কঠিন। তার ওপরে আজ আমরা আমাদের সেরা দুই পারফর্মারকে ছাড়াই জিতলাম।”

মুশফিকের ভাষ্যমতে বাংলাদেশ দলের দুই সেরা ‘পারফর্মার’ সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “আজকে আগে ব্যাট করার মতোই উইকেট ছিল। সকালে উইকেট থেকে যে সামান্য সহায়তা পাওয়া যায় তা নিতেই ফিল্ডিং করা। আমাদের বোলাররা ওদের বেঁধে রাখার চেষ্টা করলেও রস টেইলর অসাধারণ ইনিংস খেলেছে।”

তবে বড় সংগ্রহ তাড়া করতে হবে দেখে ঘাবড়ে যাননি মুশফিক। তিনি বলেন, “৩০৮ এখন খুব বড় ল্য নয়। এখন ওয়ানডেতে চার জন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকে। তাই যে কোনো সময় চড়াও হওয়া যায়।”

“আমাদের বিশ্বাস ছিল প্রথম ৮ ব্যাটসম্যান ৫০ ওভার খেললে এই ম্যাচ জেতা সম্ভব। আমাদের দলে খুব বড় পারফর্মার নেই যারা সিরিজে তিন শ’ রান করবে বা ১২ উইকেট নেবে। তবে অনেকের ছোট-খাট অবদানই আমাদের জয় এনে দেয়। আজ যেমন সম্পূর্ণ দলীয় প্রচেষ্টায় জিতলাম।”

অধিনায়কের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছেন ম্যাচ সেরা শামসুর রহমান, নাঈম ইসলাম ও নাসির হোসেন। সাকিব আল হাসান সুস্থ থাকলে খেলারই সুযোগ হতো না নাঈমের। ১০ মাস পর দলে ফিরে দারুণ ব্যাট করেছেন তিনি।

প্রথম দুই ম্যাচে রান না পেলেও শেষ ম্যাচে প্রয়োজনের সময় দায়িত্ব নিয়ে খেলে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন নাসির। মুশফিকের বিশ্বাস, এ সব কিছু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

গত এপ্রিল-মেতে জিম্বাবুয়ে সফরে দল খারাপ করার হতাশায় সফরের মাঝপথে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিক। তবে দেশে ফেরার পর সেই সিদ্ধান্ত বদল করেন তিনি।

তার অধিনায়কত্বের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মুশফিক জানিয়েছেন, আগামী বছরও অধিনায়কত্বের প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করে দেখবেন।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, জিম্বাবুয়েতে হতাশাজনক সফর তাদের অনেকখানি বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “এই সিরিজ শুরু হওয়ার আগে আমরা জরুরি সভায় বসেছিলাম। ঐ সভায় সবাই প্রতিজ্ঞা করেছি, কিছুতেই হারা চলবে না। আমাদের প্রত্যয় ছিল, আরেকটু বেশি পরিশ্রম করলে আর মন থেকে চাইলে সেটা (সাফল্য) পাওয়া সম্ভব। গত চার মাসে সবাই যে কঠিন পরিশ্রম করেছে এটা তারই সুফল

শেয়ার