সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা ও যাত্রা শিল্পে বিশেষ অবদান ॥ যশোরের ৪ গুণীজনকে সংবর্ধনা

Gonijon
এম এ রাজা ॥ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা ও যাত্রা শিল্পে অবদান রাখার জন্য যশোরের ৪ গুণীজনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সংবর্ধনা প্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন অজিত গোস্বামী, ভবানী ব্যানার্জি, অশোক রায় ও নাহার সুলতানা। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলার আয়োজনে নিজস্ব মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু ও সংবর্ধনা প্রাপ্ত গুণীজন অশোক রায়। সংবর্ধিতদের ক্রেস্ট ও ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। নিচে সংবর্ধনা প্রাপ্ত গুণীজনদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো।
অজিত গোস্বামীঃ ছন্দ শিল্পী অজিত গোস্বামী ১৯৪০ সালে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা গোপাল গোস্বামীর কাছে অল্প বয়সে তেরে কেটে বোল দিয়ে তবলায় হাতে খড়ি তার। ১৯৬৬ সালে ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ে তবলার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ৬৭ সালে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে নিজস্ব শিল্পী হিসেবে যোগদেন। এছাড়া তিনি যশোর সুরবিতান সঙ্গীত একাডেমী, ঢাকার সঙ্গীত ভবন, ছায়ানট, শিল্পকলা একাডেমীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। তিনি আব্দুল আলীমের ব্যক্তিগত তবলাবাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের বেজপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে বাস করছেন।
অশোক রায়ঃ চারুকলা শিল্পী অশোক রায় ১৯৫১ সালে যশোর শহরের বেজপাড়াতে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম জগবন্ধু রায়। তিনি ১৯৬৮ সালে সম্মিলনী ইনসটিটিউশন থেকে এসএসসি এবং ৭০ সালে এমএম কলেজ থেকে আইএ ও ৭২ সালে বিএ পাশ করেন। স্কুল জীবন থেকে আঁকার প্রতি তার ঝোঁক ছিল। ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলিতে অশোক রায়ের আঁকা পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদেনর বিকৃত ছবি সম্বলিত পোস্টার, দেয়াল লিখন মানুষকে দারুন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তার উল্লেখ যোগ্য কাজের মধ্যে ৭৮ সালে সুরবিতানের আয়োজনে নৃত্যনাট্য শকুন্তলরার মঞ্চসজ্জা। তৎকালীন সময়ে যা ঢাকার কাজকে হার মানিয়ে ছিল। বর্তমানে তিনি শহরের বেজপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে বাস করছেন। সম্প্রতি তিনি পেটের পীড়ায় ভুগছেন।
ভবানী ব্যানার্জ্জী ঃ নাট্য শিল্পী ভবানী ব্যানার্জ্জী যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর বাবার নাম ক্ষিতীশ চন্দ্র ব্যানার্জী। ১৯৬০ সাল থেকে তার নাট্য জীবন শুরু হয়। যশোর ইনস্টিটিউটের নাট্যকলা সংসদ যশোর কালেক্টকাবের মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়। তিনি মঞ্চ ছাড়াও রেডিও ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রেডিও নাটকের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ‘দায়ী কে’, ‘এবার ধরা দাও’,‘ক্রীতদাসের হাসি’ ও ‘জীবন বঙ্গ’ প্রভৃতি। অভিনয়ের জন্য তিনি বিভিন্ন পুনস্কার অর্জন করেন। তানভীর মোকাম্মেলের ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন।
নাহার সুলতানাঃ যাত্রাশিল্পী নাহার সুলতানা ১৯৬৩ সালে যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর স্বামীর নাম মৃত ফজলুর রহমান। শিল্পী জীবন শুরু নাটকের মাধ্যমে। কিশোর কাবের চেনা নাটক তার প্রথম নাটক। শ্যামলী নাটকে একজন বোবা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পুরস্কৃত হন। ১৯৭৫ সালে চারনিক নাট্য গোষ্ঠী দিয়ে যাত্রা শিল্পে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি “জানোয়ার”,“লেনিন”, “মাইকেল” সহ অসংখ্য যাত্রাপালাতে অংশ নেন। ‘জানোয়ার’ যাত্রাপাতালে অভিনয় করে তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘নাহার অপেরা’ নামে যাত্রার দল চালু করেন।

শেয়ার