ডিজিটালে মডেল যশোর এখন হাতের মুঠোয় নাগরিক সেবা

images
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
ডিজিটাল বাংলাদেশের মডেল যশোর জেলা। এ জেলার মানুষই প্রথম হাতের মুঠোয় ই-সেবা পাচ্ছে যশোরের ডিজিটাল সেবার আলোকেই সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ডিজিটাল সেবা। ঘরে বসে মানুষ নাগরিক সেবা পাচ্ছেন। দেশের প্রথম মডেল জেলা হিসেবে যশোর একের পর এক ডিজিটালের চমক সৃষ্টি করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান করায় জনগনের অর্থ, সময় ও হয়রানি কমেছে। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র (ইউআইসি) ও জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে ৫৭ প্রকার সেবা গ্রহণ করছে। একই সাথে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল প্রদান, টেলিমেডিসিনে স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা , ২৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব সাইট, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েব সাইট ও অনলাইনের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মত কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ব্রিটিশ ভারতের প্রাচীন জেলা ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর ডিজিটাল জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতিসংঘের মহাসচিব উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর যশোর সফরে এসে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরের ফলক উন্মোচন করেন।
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এসএম আরিফ জানান, ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র ও জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সহজে জনগনের দোরগোড়ার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ৫৭ প্রকারে নাগরিক সেবা। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে যেকোন নাগরিক সেবার জন্য সহজেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যশোরের পুলিশ বিভাগ, নির্বাচন অফিস, ভূমি অফিস, হিসাব রক্ষণ বিভাগ, রেজিস্ট্রি অফিস, শিক্ষাবোর্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পাসপোর্ট অফিস, বিসিক, শিশু একাডেমি, তথ্য অফিস, বিআরটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, যুব উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমবায় অফিস, পল্ল¬ী উন্নয়ন বোর্ড, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য সম্পদ, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, খাদ্য অফিস, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পরিসংখ্যান ব্যুরো, শিল্পকলা একাডেমি ডিজিটালের আওতায় আনা হয়েছে। একই সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের স্বতন্ত্র ওয়েব সাইট চালু করা হয়েছে। যশোর শিক্ষাবোর্ডের সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। অপরদিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তিনটি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালু করা হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। সাধারণ মানুষ ১০০ টাকা ফি জমা দিয়ে ঢাকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারছে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে রোগীরা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ প্রদান করেন। এসময় রোগীদের ব্যাবস্থাপত্র প্রদানেরও সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও যশোর পৌরসভা ও কালেক্টরেট পার্কে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা। সব শ্রেণী পেশার মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন। আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে অর্থ আয়ে সাবলম্বী করতে ফ্রিল্যান্সারদের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে নানা প্রশিক্ষনের আয়োজন করা হচ্ছে। যশোরে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ চলছে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক বলেন, জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ওয়েব সাইট চালু করা হয়েছে। ডিজিটালি সকল স্কুল পরিদর্শন করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী হাজিরা, শিক্ষকদের বেতন, টাইম স্কেল ইত্যাদি ই-সেবার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। ই-সেবা চালুর ফলে জটিলতা কমেছে।
সম্প্রতি যশোরে এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের যাত্রা যশোর থেকে শুরু হয়েছে। এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। যশোরের কালেক্টরেট পার্কে প্রথম বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু করা হলো। ভবিষ্যতে রেল স্টেশন, বাসস্যান্ড ও চায়ের দোকানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু করা হবে। আর সেই সেবা যশোর থেকে শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার