যশোর আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল হত্যাকাণ্ড ॥ কিলিং মিশনে অংশ নেয়া খুনিরা ৩ দিনেও আটক হয়নি

1383161408.
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর পৗরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পুরাতন টায়ার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম (৫২) হত্যা তিন দিন অতিবাহিত হলেও কিলিং মিশিনে অংশ নেয়া খুনিরা কেউ আটক হয়নি। হত্যার হুকুমদাতা ও তথ্য দাতা হিসেবে নাম আসা সেলিম পলাশকে ঘটনার পরদিন আটক করা হলেও এ হত্যাকান্ড নিয়ে আর কোন অগ্রগতি নেই । এতে নিহতের পরিবার স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা রোড তালতলা এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন নজরুল ইসলাম । এসময় সন্ত্রাসীরা তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রথমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তাকে লক্ষ্য করে ৩/৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানে প্রায় ৩ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনায় নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এহত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাগ্নে জামাই জুয়েল ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ বলেন, আসামি আটকে তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য গতকাল রাত পর্যন্ত আর কেউ আটক হয়নি। এদিকে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের তিন দিন পর হলেও কেউ আটক না হওয়ায় নিহতের পরিবারসহ পুরাতন টায়ার ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনেকে বলেছেন, নজরুলের কারা শত্রু ছিল। কারা তার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সে বিষয়টি নজরুল বেঁচে থাকাকালীন অর্থ্যাৎ গত ১৫ দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে বলে গেছেন। অথচ পুলিশ নজরুলের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি খুনিদের গ্রেফতার করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। তারা মনে করেন পুলিশের নিস্ক্রীয়তায় প্রাণ দিতে হয়েছে নজরুলের। প্রথম হামলার পর থেকে পুলিশ তৎপর হলে আজ তার সন্তারা এতিম হত না।

শেয়ার