চাঞ্চল্যকর মামলা তদন্তে বিশেষ টিম

scqurity
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সারাদেশের চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্তের জন্য পুলিশের নতুন বিশেষ ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিগগিরই মাঠে নামছে।
সংশিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ মাসেই (নভেম্বর) পিবিআইয়ের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আদলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি হচ্ছে পুলিশের এ বিশেষ ইউনিট। প্রথমদিকে জেলা পর্যায়ে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইউনিট যাত্রা শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে মেট্রোপলিটন এলাকায় কাজ করবে পিবিআই। মূলত থানায় মামলাজট কমাতে ও তদন্ত সুষ্ঠু করার জন্যই এই ইউনিটের গঠন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ অক্টোবর সরকারের এক আদেশে পিবিআই গঠন হয়। ডিসেম্বরের ২২ তারিখে নতুন ইউনিট পিবিআইতে পদায়ন শুরু হলে কিছু পুলিশ সদস্য নির্দেশিত হয়ে কাজ শুরু করেন। এখনও পিবিআই এর স্থায়ী কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়নি। তাই ঢাকা মহানগর পুলিশের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের দোতলায় অস্থায়ী কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার ফোর্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। এখন চলছে গোয়েন্দা নজরদারী ও প্রশিক্ষণ কার্যাক্রম শেষ পর্যায়।
থানা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জট কমানোর উদ্দেশ্যেই পিবিআইর গঠন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোয় গঠিত এই পৃথক তদন্ত ইউনিট পরিচালনার জন্য জনবল মঞ্জুরি করা হয় ৯৭০ জনের। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। পদবিন্যাস অনুযায়ী একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ইউনিটটির নেতৃত্ব দেবেন। এরপর আছেন দু’জন এডিশনাল ডিআইজি। যারা পিবিআইর পূর্ব এবং পশ্চিম জোনের নেতৃত্বে তদন্তের কাজ তদারকি করবেন। এরপর আছেন- নয় জন পুলিশ সুপার (এসপি), ৭০ জন এডিশনাল এসপি, চার জন এসসপি, ২১০ জন ইন্সপেক্টর, ২৮০ জন এসআই, ১২১ জন এএসআই এবং ২৪২ জন কনস্টেবল।
সূত্র জানায়, একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তিন বছর সারা দেশে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এবং বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে প্রায় ৭৫ শতাংশ মামলা খালাস হয়ে যায়। এ কারণে অনেক আসামি খালাস পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ২০১১ সালে ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ নামে একটি পৃথক তদন্ত সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬১ এর সেকশন ১২ এর ক্ষমতাবলে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে গত বছরের অক্টোবরে পিবিআই গঠিত হয়।
সূত্র আরও জানায়, প্রতিবছর দেশে গড়ে এক লাখ ৬০ হাজার মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পাশাপাশি ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মামলাগুলোসহ ১৫ ধরনের মামলার তদন্ত পর্যায়ক্রমে শুরু করবে পিবিআই। পুরো জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পর প্রতিবছর ৭০ হাজার মামলা তদন্ত করতে সক্ষম হবে এ বিশেষ ইউনিট।
পিবিআইয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলামেইলকে জানান, পিবিআইতে বেশির ভাগ কর্মকর্তারাই যোগদান করেছেন। কাজকর্মও গুছিয়ে ফেলা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী খুব শিগগিরই কাজে নামবে পিবিআই। তিনি আরও জানান, পিবিআই প্রচলিত কোনো সংস্থা নয়। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে মামলার তদন্ত কাজ করবে তারা। থানা পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এটি গঠিত হয়েছে।
পিবিআই সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ‘পিআইবির মামলা তদন্তে নীতিমালা রয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

শেয়ার