কিশোরী টারজান

tarjan
সমাজের কথা ডেস্ক॥
এডগার রাইস বারোসের অনবদ্য সৃষ্টি টারজানের নাম শোনেনি এমন কাউকে পাওয়া দুষ্কর। উপন্যাস থেকে কমিকস থেকে চলচ্চিত্রে রূপায়ন এর মাধ্যমে এ কাল্পনিক চরিত্রটির সাথে সবাই পরিচিতি। কিন্তু বাস্তবেও যে এমন চরিত্র খুঁজে পাওয়া যেতে পারে তা তা সম্ভবত কল্পনাতীত ছিল। তাও আবার কোনো কিশোরী টারজান! হ্যাঁ, এমন একজন কিশোরী টারজানকেই পাওয়া গেছে ভারতে।
টারজান হলো এমন একটি চরিত্র যে বনের সব পশুর বন্ধু। বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে তার বসবাস, পশুদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ও করে।
পূর্ব ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে খোঁজ পাওয়া গেছে নির্মলা টোপো নামের এমনি এক টারজান কিশোরীর।
রাজ্যের ঝাড়খাণ্ড গ্রামের ১৪ বছরের একটি আদিবাসী মেয়ে নির্মলা। চলতি বছরের জুন মাসে স্থানীয় রুরখেলা নামক গ্রামের পাশের একটি বন থেকে একপাল বন্যহাতি জনবসতিতে ঢুকে পড়ে। ঠিক তখন সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো হাতির পালটিকে আবার বনে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সে।
হাতির পালটির পথপ্রদর্শক হয়ে কয়েক মাইল হেঁটে বনে যায় নির্মলা। এতে তার পায়ে জল ফোস্কা পড়ে যায়। এজন্য তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। বর্তমানে অবশ্য সুস্থ আছে। স্থানীয় প্রশাসন নির্মলার এই সাহায্যের জন্য তাকে পুরস্কৃত করেছে।
স্থানীয় আদিবাসী নির্মলা একজন রোমান ক্যাথলিক। সে জানায়, প্রথমে সে প্রার্থনা করেছিল এবং পরবর্তীতে ‘মুন্ডারি’ নামক স্থানীয় আদিবাসীদের ভাষায় হাতির পালটির সঙ্গে কথা বলে এবং তাদেরকে নিজের বাসস্থানে ফিরে যেতে বলে।

সে আরও জানায়, তার মা বন্যহাতির আক্রমণে মারা গিয়েছিল এবং তখন থেকেই সে হাতিদেরকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই কৌশল শিখছিল।
উল্লেখ্য, স্থানীয় বনবিভাগ হাতির পালটি গ্রামে ঢোকার সাথে সাথে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। পালটিতে দু’টি বাচ্চাসহ প্রায় ১১টি হাতি ছিল এবং তাদেরকে স্থানীয় একটি ফুটবল মাঠে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তখনও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। তারপর বন বিভাগ জানতে পারে পাশের গ্রামে নির্মলা নামের এক কিশোরী আছে যে হাতির সঙ্গে কথা বলতে পারে। এবং তৎক্ষণাৎ তারা নির্মলার সাহায্য নেয়।

শেয়ার