শীত আসছে, গ্রামীন জনপদে শুরু হয়েছে খেজুর গাছ কাটা আর পাটালী তৈরির প্রস্তুতি

Jessoredatetree
ডা. মীর আনিসুজ্জামান, জীবননগর॥ জীবননগর উপজেলার সর্বত্রই শীতের শুরতেই খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়েছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিক এ বৃকে ঘিরে গ্রামীন জনপদে শুরু হবে এক উৎসব মুখর পরিবেশ। গাছ থেকে গাছিরা সংগ্রহ করবে সুমিষ্ট খেজুর রস, তৈরী হবে লোভনীয় গুড় ও পাটালী । রস জ্বালিয়ে ভিজানো পিঠা ও পায়েস খাওয়ার ধুম পড়বে উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। রসনা তৃপ্তিতে খেজুরের গুড়-পাটালীর কোন জুড়ি নেই। শীত মৌসুমে গ্রাম বাংলার এক নতুন আমেজের সৃষ্টি হবে।
এক সময় জীবননগর উপজেলা খেজুরের রস, গুড় ও পাটালী উৎপাদনে প্রসিদ্ধ ছিল। দেশের বাইরেও এর বেশ কদর রয়েছে। গ্রাম বাংলার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক এ খাতে সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বর্তামান আর আগের মত রস,গুড় উৎপাদন হয় না। সুঘ্রাণ নলেন গুড় উপজেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রাম ছাড়া পাওয়া যায় না। তা আবার চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। তার পরও যে রস,গুড় ও পাটালী তৈরী হয় তা দিয়ে শীত মৌসুমে রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম হবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে।ইতি মধ্যেই শহরের লোকজন গ্রামের গাছিদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ গাছিদের নিকট অগ্রীম টাকা তুলে দিচ্ছেন ভাল রস, গুড় ও পাটালী পাওয়ার আশায়। অগ্রীম টাকা পেয়ে অনেক গাছি রস সংগ্রহের উপকরন কিনছেন।
এ বছর গাছিরা একটু আগে ভাগেই খেজুর গাছ কাটতে শুরু করেছেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই রস সংগ্রহের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এ বছর আগে ভাগেই শীতের আমেজ শুরু হওয়ায় গাছিদের জন্য ভাল হয়েছে। উপজেলায় এখনও পর্যন্ত শীত তেমন জেঁকে না বসলেও গাছিরা খেজুর গাছের ডাল-পালা পরিস্কার, গাছি দা তৈরী, দড়ি ও মাটির ভাঁড় কেনা , রস জ্বালানোর স্থান ঠিক করাসহ যাবতীয় কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। জীবননগর উপজেলার এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে কম-বেশী খেজুর গাছ নেই। এ সব গ্রামের গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকার অন্যান্য ফসলের মত উলেখযোগ্য কোন পদপে নেয়না গ্রাম বাংলার গৌরব আর ঐতিহ্য গাঁথা খেজুর গাছের চাষ সম্প্রসারনে। এ উপজেলার চাষীরা নিজেদের পতিত জমিতে বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান গড়ে তুলছে এবং খেজুর রস, গুড় ও পাটালীর চাহিদা অনেক্ংাশেই পূরন করতে সম হচ্ছে।
উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, খেজুর গাছীরা গাছ থেকে রস আহরনের জন্য গাছের ডাল পালা কেটে পরিস্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রথম পর্যায়ে গ্রামীন জনপদে সন্ধা রস (সাজো রস) খাওয়ার ধুম পড়বে। গ্রামীন বাংলার সান্ধ্যকালীন জীবন আনন্দের হয়ে উঠছে।
শহরের মানুষ সারা দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় রস খেতে গ্রামে ছুটে আসেন। অপর দিকে গ্রামের বধুরা রস দিয়ে পিঠা পায়েস তৈরী করতে মরিয়া হয়ে ওঠবে। যত বেশী শীত পড়বে রস তত বেশী মিষ্টি হবে। শীত মৌসুমে শুধুমাত্র খেজুরের রস গুড় ও পাটালী খেতে রাজধানী ঢাকা থেকে লোকজন গ্রামে ছুটে আসে। এ বছরও এমন প্রত্যাশা করছেন গ্রামীন গাছিরা। প্রতি শীত মৌসুমে চাষীরা খেজুর গাছের রস গুড় ও পাটালী বিক্রি করে আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হয়ে থাকেন।

শেয়ার