বাঘের থাবায় ঘায়েল নিউজিল্যান্ড

Bnaglateam
সমাজের কথা ডেস্ক ॥
প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে অধিনায়ক বলেই ফেলেছিলেন মনের কথাটা, সিরিজ জয়ের জন্য শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় থাকতে চান না তিনি। মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে তার কথা রাখলো বাংলাদেশ দল। মাঠের সব বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে ৪০ রানে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে বানিয়ে দিল আনুষ্ঠানিকতা।

অতিথিদের সামনে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে মোটামুটি এই সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে ৪৬ ওভার ৪ বলে ২০৭ রানে অলআউট নিউ জিল্যান্ড। ২০১০ সালের পর আবার অতিথিদের সামনে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কা।

ম্যাচের স্কোরকার্ড বিভিন্ন সময়ে যাই বলুক, ব্যাট করতে নেমে কথনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। নিয়মিত উইকেট নিয়ে সব সময়ই তাদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই যার পথ দেখিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দেশসেরা এই পেসারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন হামিশ রাদারফোর্ড (১)। অ্যান্টন ডেভসিচ ও গ্রান্ট এলিয়টের ৪০ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভেঙ্গে দৃশ্যপটে আসেন স্পিনাররা। ১৩তম ওভারের শেষ বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ডেভসিচকে (১৯) ফেরত পাঠান অফস্পিনার সোহাগ গাজী।

পরের ওভারের প্রথম বলে বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর গ্রান্ট এলিয়টকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে উল্লাসে ফেটে পড়ে কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি।

চতুর্থ উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে রস টেইলের ৬১ রানের চমৎকার জুটির প্রতিরোধ ভাঙ্গে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচে। মাশরাফির ব্যাট অ্যান্ডারসনের (৩৭) ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপের দিকে যাওয়ার সময় বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্লাভস বন্দী করেন তিনি।

টেইলরের সঙ্গে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জুটিতে ছিল স্বাগতিকদের স্বপ্ন ভঙ্গের হুমকি। কিন্তু মুশফিকের চাতে যের্ের সঙ্গে পেরে উঠেনি অতিথিরা। নাঈম ইসলাম আর নাসির হোসেনকে রেখে তিনি বল তুলে দেন মুমিনুল হকের হাতে। হতাশ করেননি তিনি। ম্যাককালামকে (১৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অতিথিদের বিশাল এক ধাক্কা দেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

পরের ওভারেই টম ল্যাথামের (০) রান-আউট অতিথিদের বিপদ আরো বাড়ায়। পাওয়ার প্লে’তে জেমস নিশামকে নাঈম আর বিপজ্জনক টেইলরকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যাচে পরিণত করে বাংলাদেশের জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেন সোহাগ।

এরপরও চেষ্টা করেছিলেন নাথান ম্যাককালাম ও কাইল মিলস। মুমিনুল নাথানকে (২৫) মাহমুদুল্লাহর ক্যাচে পরিণত করার পর লড়াই চালিয়ে যান মিলস।

এক প্রান্তে মিলস ২৭ রানে অপরাজিত থাকলেও টিম সাউদিকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন মাশরাফি। অতিথিদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা ষষ্ঠ জয়।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও সোহাগ তিনটি করে উইকেট নেন।

এটি বাংলাদেশের ১৫তম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ জয়। দেশের মাটিতে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

অভিষিক্ত শামসুর রহমানের সঙ্গে তামিম ইকবালের ৬৩ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দিলেও রানের গতি ছিল ধীর। এনামুল হকের জায়গায় খেলতে নেমে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন শামসুর।

রান রেটের চাপে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে নাথান ম্যাককালামের বলে শামসুর (২৫) স্ট্যাম্পিং হয়ে গেলে ভাঙে ১০১ বল স্থায়ী জুটি। নাথানের আগের ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রথম ৪০ বলে ১০ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

প্রথম ম্যাচে ‘ডায়মন্ড ডাক’ পাওয়া মুমিনুল হক এসেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তামিমের সঙ্গে ৪৭ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তার অবদান ৩১। কোরি অ্যান্ডারসনের বলে পুল করতে গিয়ে নাথানের হাতে ধরা পড়া মুমিনুলের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার।

দেখেশুনে খেলে অর্ধশতকে পৌঁছানোর পর-পরই আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে তামিম অ্যান্ডারসনের বলে বোল্ড হয়ে যান। ৫৮ রান করা তামিমের ৮৬ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।

এ রান করার পথে সাকিব আল হাসানকে (৩৬৮৮) ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নেন তামিম (৩৭০২)।

প্রথম ম্যাচে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে দেয়া অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাঈম ইসলাম দলকে ৩ উইকেটে ১৬৯ রানের স্বস্তিকর জায়গায় নিয়ে যান। কিন্তু ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে পর পর তিনি ওভারে মুশফিক (৩১), নাঈম (১৬) ও নাসির হোসেনের (৩) বিদায় স্বাগতিকদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।

১৭৩/৬-এ পরিণত হওয়া বাংলাদেশকে আড়াইশ’র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব সোহাগ গাজী (২৬), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (২১) ও মাশরাফি বিন মুর্তজার (১৪)।

সপ্তম উইকেটে সোহাগ-মাহমুদুল্লাহর ৪৮ রানের চমৎকার জুটি ভাঙ্গা অ্যান্ডারসন ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের সেরা বোলার। রুবেল হোসেনকে বোল্ড করে এক ওভার বাকি থাকতেই স্বাগতিকদের ইনিংস থামিয়ে দেয়া জেমস নিশাম ৪ উইকেট নেন ৫৩ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯ ওভারে ২৪৭ (তামিম ৫৮, শামসুর ২৫, মুমিনুল ৩১, মুশফিক ৩১, নাঈম ১৬, নাসির ৩, মাহমুদুল্লাহ ২১, সোহাগ ২৬, মাশরাফি ১৪, রাজ্জাক ৪*, রুবেল ২; অ্যান্ডারসন ৪/৪০, নিশাম ৪/৫৩, নাথান ১/৪২, মিলস ১/৪৭)

নিউ জিল্যান্ড: ৪৬.৪ ওভারে ২০৭ (ডেভিসিচ ১৯, রাদারফোর্ড ১, এলিয়ট ১৪, টেইলর ৪৫, অ্যান্ডারসন ৩৭, ব্রেন্ডন ১৪, ল্যাথাম ০, নিশাম ৮, নাথান ২৫, মিলস ২৭*, সাউদি ০; সোহাগ ৩/৩৪, মাশরাফি ৩/৪৩, মুমিনুল ২/১৩, রাজ্জাক ১/৩৫)

শেয়ার