পরীক্ষার সময় হরতাল না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Pm
সমাজের কথা ডেস্ক ॥ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ডিসেম্বর মাসে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে হরতালের মতো কর্মসূচি না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরে এক জনসভায় তিনি বলেন, “চার তারিখ থেকে জেএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। শোনা যাচ্ছে উনি আবার হরতাল ডাকবেন। অনুরোধ করব, পরীক্ষার সময় নষ্ট করবেন না। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখছে, মানুষের মতো মানুষ হবে।”

তিনি বলেন, “সংবিধান মোতাবেক আগামী নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। সেই নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু।”

আজকের শিশুরাই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হবে- এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভপতি হাসিনা বলেন, “জানি না তিনি (খালেদা জিয়া) কথা রাখবেন কিনা। তিনি ‘না’ ছাড়া আর কিছুই বলতে জানেন না।”

শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী লেখাপড়া ‘পছন্দ করেন না’ বলেই পরীক্ষা এলে হরতাল দিয়ে তা বন্ধ করেন।

“এর একটা কারণ আছে। উনি একবার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। বাংলা, উর্দু আর অংক ছাড়া সব বিষয়ে ফেল করেছিলেন। উনি ভাবেন নিজে যখন পারেন নাই, ছেলে-মেয়েরা কেন পাস করবে।”

বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুখে উনি বলেন কি, আর কাজে করেন কি?। উনি সংবাদ সম্মেলন করে শান্তির বাণী শোনালেন, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না বললেন। আর করলেন কি? বোমা মেরে শিশুর চোখ নষ্ট করলেন। তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা পুলিশ, বিজিবি আর সেনা সদস্য হত্যা করল।ৃ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাল।”

প্রধানমন্ত্রীর ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় দুই নেত্রীর টেলি আলাপনের প্রসঙ্গও আসে।

গণভবনে আলোচনার আমন্ত্রণ গ্রহণ না করে হরতাল করায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তিনি পূবে যাব বলেন, কিন্তু যান পশ্চিমে। সংলাপে ডাকলে উল্টো পথ ধরেন।”

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রোববার থেকে ৬০ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করার পর শনিবার তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি তাকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানালেও বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, হরতালের পর তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারবেন।

গাজীপুরের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, “উনাকে অনুরোধ করলাম ২৮ তারিখ আসেন। আলোচনা করেন। উনি বললেন পারবেন না। হরতাল করবেন। একবার বললেন আগেরদিন ৯টায় ফোন দিলে হরতাল তুলে নিতে পারতেন, আরেকবার বললেন ১৮ দলের সঙ্গে কথা না বলে পারবেন না।

“তিনি যদি ওই দিন বসতেন, তাহলে ২০টি প্রাণ বেঁচে যেত। তিনি মানুষ হত্যা করলেন। দিনমজুরের আয়ের পথ বন্ধ করলেন।”

যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিরোধী দলীয় নেতা ‘মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ‘মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে’।

“তারা সন্ত্রাস, দুর্নীতি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনা। তারা লাশ উপহার দেয়, মানুষের হাত ও পায়ের রগ কেটে নেয়। অন্যের জমি দখল করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে তোলে।

“পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়। মানুষ শান্তি পায়। আমরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। আমরা শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করেছি।”

আগামী নির্বাচনে আবারো ‘নৌকা মার্কায়’ ভোট দিলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের সময়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন করবে। বিএনপি নেত্রী আন্দোলন করছেন কেন? উনি ভেবে দেখলেন ভোট চুরি করতে পারবেন না। তাই তালগোল পাকাচ্ছেন।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, “ফোন ধরার প্রস্তুতি নিতেই যার ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে, তিনি দেশ চালাবেন কীভাবে?”

“উনি হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চান, সেজন্যই উনার ছেলে আর ক্যাবিনেটের মন্ত্রীকে দিয়ে ২১ আগস্ট বোমা হামলা করলেন।”

গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই জনসভা হয়।

বেলা ৩টার দিকে হেলিকপ্টারে করে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের হেলিপ্যাডে পৌঁছানোর পর সড়ক পথে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক স্লোগান দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

মঞ্চের ওঠার আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলের পাশেই পর্দা টেনে ৩৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আকম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, অ্যাডভোকেট রহমত আলী, আখতারউজ্জামান, সিমিন হোসেন রিমি, জাহিদ আহসান রাসেল, জাহানারা বেগম, আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, ওমর ফারুক চৌধুরী, পঙ্কজ দেবনাথ, রুহুল আমিন মাদানী, হারুন অর রশিদ, মোতাহার হোসেন মোল্লা, নাজমা আক্তার, অধ্যাপিকা অপু উকিল, অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম বাবুল, আমানত হোসেন খান এ জনসভায় বক্তব্য দেন।

সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্লাহ খান।

শেয়ার