না পুরুষ, না নারী

gender
সমাজের কথা ডেস্ক ॥ ইউরোপে জার্মানিই প্রথম দেশ, যারা এভাবে জেন্ডার বা লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেটে জায়গাটি খালি রাখার ব্যবস্থা করল – এর ফলে একটি ‘ইন্টারমিডিয়েট সেক্স’ বা ‘মধ্যম লিঙ্গ’ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা৷

‘মধ্যম লিঙ্গ’ ব্যাপারটা শুধু নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে ক্ষতি ছিল না, কিন্তু ব্যাপারটা স্কুল অবধিও গড়াতে পারে – এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘আইএলজিএ ইউরোপ’ নামধারী একটি সমকামী অধিকার গোষ্ঠীর পলিসি ডাইরেক্টর সিলভান এজিয়াস৷ গোষ্ঠীটি স্ত্রী ও পুরুষ সমকামী, উভলিঙ্গ, ট্রান্সসেক্সুয়াল ও ইন্টারসেক্স গোত্রীয় মানুষদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয়৷

এজিয়াস-এর বক্তব্য হলো: ‘‘স্কুলে ছেলেদের জন্য আলাদা টয়লেট আছে, মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকে৷ তাহলে ‘মধ্যম লিঙ্গের’ শিশুরা যাবে কোথায়? ছেলেদের এবং মেয়েদের জন্য আলাদা খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে – এছাড়া আরো অনেক কিছু৷ আইন তো সেটা বদলাচ্ছে না৷ আইন এই মধ্যম লিঙ্গের মানুষদের জন্য কোনো নিজস্ব জায়গা সৃষ্টি করছে না৷”

জার্মানি কেন এই পদক্ষেপ নিল, তার একাধিক ব্যাখ্যা আছে৷ এই প্রথম জার্মান আইনে স্বীকার করা হলো যে, এমন মানুষ আছে, যারা স্ত্রী-পুরুষের প্রথাগত আইনগত বিভাগগুলির কোনোটাতে পড়ে না৷ পয়লা নভেম্বর থেকে জার্মান পাসপোর্টে জেন্ডারের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য ‘এম’ এবং মহিলাদের জন্য ‘এফ’ ছাড়াও ‘এক্স’ থাকতে পারবে৷

অন্যান্য ব্যক্তিগত নথিপত্রের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ অপরদিকে বিবাহ কিংবা পার্টনারশিপ আইনের উপর এই সব পরিবর্তনের কি প্রভাব পড়বে, তা এখনও অজানা৷ জার্মানিতে বিবাহ হয় স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে৷ উভয়ে একই লিঙ্গের হলে তাদের মধ্যে সিভিল পার্টনারশিপ রেজিস্ট্রি করা হয়৷ যেহেতু নতুন আইনটি শুধুমাত্র শিশুর জন্মের সময়ে আবদ্ধ, সেহেতু তার সংকীর্ণ পরিধিতে উভলিঙ্গ মানুষদের জটিল সমস্যাগুলির সমাধান করা পুরোপুরি সম্ভব হবে না, বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷

নতুন জার্মান আইনটির সেরকম কোনো উচ্চাকাঙ্খা ছিল না৷ উদ্দেশ্য ছিল: বাবা-মায়েরা যেন শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তার লিঙ্গ নির্ধারণ করতে, অথবা লিঙ্গ নির্দেশে সম্মতি দিতে বাধ্য না হন৷ বিশেষ করে সেটা যখন বহুক্ষেত্রেই শিশুর লিঙ্গের উপর তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারে পর্যবসিত হতে পারে৷ এই পন্থায় বাবা-মা – এবং সম্ভবত শিশু – লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য কিছুটা বেশি সময় পেলেও, অপরদিকে জন্ম থেকেই উভলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এই সব শিশুর ভাগ্যে বহির্জগতে যে কি জুটবে, তা কারো জানা নেই৷

সমকামী অধিকার আন্দোলনকারী সিলভান এজিয়াস বলেন, লিঙ্গ সত্তা অধিকারের ক্ষেত্রে ইউরোপ পিছনে পড়ে রয়েছে৷ এ বছরের সূচনায় অস্ট্রেলিয়া ব্যক্তিবর্গকে তাদের ব্যক্তিগত নথিপত্রে নিজেদের উভলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করার অধিকার দেয়৷ এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বৈষম্য প্রতিরোধী আইনেও লিঙ্গ সত্তা যুক্ত করা হয়৷ সে তুলনায় জার্মানি একটি নিরপেক্ষ এথিক্স কাউন্সিলের ২০১২ সালের রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিল৷

জার্মানিতে প্রতি দেড় থেকে দু’হাজার শিশুর মধ্যে একটি উভলিঙ্গ হিসেবে জন্ম নেয়৷ সূত্র: এএফপি

শেয়ার