নজরুলের অবস্থান নিশ্চিত করে সেলিম পলাশ

1383161408.
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পুরাতন টায়ার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫/৬ জনকে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের দিন আটক ৭ জনের মধ্যে সেলিম পলাশ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। নিহতের ভাগ্নিজামাই জুয়েল বাদী হয়ে গতকাল কোতোয়ালি থানায় এই মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, মোল্লাপাড়ার নান্নু, তার ভাই পান্নু, লাভলু, ডিম রিপন, মিজান, শিপন, মোমিন, সিরাজুল ইসলাম সিরু, সেতু, মিন্টু, জনি, টুকু, রিপন, রশিদ বিহারী, বাবু, শামীম ও শরিফুল। এদিকে, বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণে নিহত খুনিদের আটকের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করে। এর আগে বুধবার খুনিদের ধরার জন্য দুই দিনের সময় বেধে দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। নিহত হওয়ার আগে নজরুলের উপর বোমা হামলা হলেও তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একদিকে তারা পুলিশের উপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তেমনি পুরাতন টায়ার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরাও নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা রোড তালতলা এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন নজরুল ইসলাম। এসময় সন্ত্রাসীরা তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রথমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তাকে লক্ষ্য করে ৩/৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানে প্রায় ৩ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনায় নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় বুধবার ভোর থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড, সিটি কলেজপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রনি, রবিউল ইসলামের ছেলে হৃদয়, দিপু বিশ্বাসের ছেলে সুমন, আব্দুর রহমানের ছেলে মেহেদি হাসান, খালধার রোড এলাকার জামির হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ ও নীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মহসিন ও সেলিম পলাশ এই ৭ জনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানকালে পুলিশ এদের আটক ছাড়াও ১টি ওয়ানশুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি, ৩টি তাজা বোমা, আধাকেজি গান পাউডার, ২কেজি জালের কাঠি, ৪টি খালি জর্দার কৌটা উদ্ধার করেছে। তবে এদের মধ্যে সেলিম পলাশকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হলেও অন্যদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনেসহ বিভিন্ন মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসছে। একটি সূত্র বলেছে, নান্নুর বেয়াই সেলিম পলাশ হত্যার আগে মনিহার এলাকায় অবস্থান করছিলো। নিহত নজরুলের অবস্থান সম্পর্কে সেই সবকিছু তথ্য আদান প্রদান করে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক জানান, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা যাচ্ছেনা।

শেয়ার