অসুস্থ প্রেমিককে বিয়ে করছেন লারিসা

Love
সমাজের কথা ডেস্ক ॥ দীর্ঘ ছয় বছর অসুস্থ প্রেমিকের সেবা করে তাকে কিছুটা সারিয়ে তোলার পর এবার তাকে বিয়ে করার ঘোষণা দেয়েছেন লারিসা মারফি। তার এই ঘোষণা পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। কেননা এটি কোনো সাধারণ বিয়ে নয়। অনেকে এই ভেবে অবাক হন এই চরম বস্তুবাদী যুগেও এতটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা কীভাবে সম্ভব। তাইতো সামাজিক নেটওয়ার্কে ‘স্টোরি অব ইয়ান এন্ড লারিসা মারফি’ ভিডিওটি প্রকাশের তাতে আট লাখ লাইক পড়েছে।

পেনসিলভিয়ার বাসিন্দা লারিসা বিয়ে করছেন তার অসুস্থ প্রেমিক ইয়ানকে যে নাকি কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। তার প্রেমিক ইয়ান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে মস্থিষ্কের জটিলতায় ভুগছে। আয় রোজগার তো দূরের কথা ব্যক্তিগত কোনো কাজই অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে পারে না অথর্ব ইয়ান। অথচ তাদের জীবনটা কিন্তু এমন ছিল না।২০০৫ সালে কলেজে পড়তে এসে দুজনার দেখা। এরপর দুজনার মধ্যে প্রেম। প্রায় এক বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রেমিক জুটি। কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়ে যায়। ভবিষ্যৎ নিয়ে কতই না স্বপ্ন দেখতে থাকে লারিসা। কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আর এক।

বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন ইয়ান। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে সে। এতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পায় ইয়ান। ইয়ানের দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে চীনামাটির বাসনের মতো ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায় লারিসার সব স্বপ্ন।

কিন্তু ভেঙে পড়ার পাত্রী নয় লারিসা। নিজের জন্য স্বচ্ছল আর সমর্থ জীবন সঙ্গী খুঁজে নেয়া বদলে তিনি ছুটে যান আহত ইয়ানের কাছে। তার দেখভালে দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাধে। আর ইয়ান! সে তো এখন একটা শিশুর মতোই। ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার অবস্থাও তার নেই। লারিসা বলেন,‘আমি জানি সে কথা বলতে পারে না। কিন্তু তারপরও সেতো আমাকেই ভালবাসে। তাই আমি সবসময় একাই ওর সঙ্গে কথা বলি।’ ইয়ান তার নিজের খাবারটা পর্যন্ত হাতে তুলে খেতে পারে না।সারাক্ষণ শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

তবে ইয়ানের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। আর এজন্যই অসুস্থ প্রেমিককে বিয়ে করা ঘোষণা দিয়েছেন লারিসা। এ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ঘোষণা,‘ও যেদিন আমার সঙ্গে কথা বলবে সেদিনই আমরা বিয়ে করবো। জানি এটা খুব অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু আমি আমার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।আমার বিশ্বাস ইয়ান একদিন আমার সঙ্গে কথা বলবে।’

ইয়ান খানিকটা সুস্থ হয়ে ওঠলে বিয়ের পরামর্শের জন্য ওকে নিয়ে এক বিচারকের কাছে যান লারিসা।বিচারক বলেন,‘তোমাদের প্রেম সমাজের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ বিয়েতে কেবল তোমরাই উপকৃত হবে না, আমাদের এই শহরবাসীও তোমাদের ভালোবাসা থেকে অনেক কিছু শিখবে।’

বিচারকের অনুমতি পাওয়ার পর শীঘ্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন এই প্রেমিক জুটি। চলছে বিয়ের আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি। কিন্তু লারিসার দুঃখ একটাই, ইয়ানের বাবা তাদের বিয়েটা দেখে যেতে পারলেন না। ওদের বিয়ে নিয়ে কিন্তু তারই আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। ইয়ান আহত হওয়ার পর ক্যান্সারে মারা যান তিনি।

বিয়ে সম্পর্কে লারিসা জানান,‘বিয়ে বলতে যে আনন্দ আর স্ফূর্তি বোঝায় সেগুলো আমার জীবনে হবে না। আমার সব স্বপ্ন তো ওর দুর্ঘটনার সঙ্গেই হারিয়ে গেছে।’সে আরো বলে,‘ আমার বান্ধবীরা বিয়ে করে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকে। তারা তাদের স্বামীর সঙ্গে বিয়ের দিন নাচে, রোববার তাদের গাড়িতে করে গির্জায় পেঁছে দেয়, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। কত মজা করে ওরা।’ কিন্তু লারিসার কাছে বিয়ে অর্থ শুধুই দায়িত্ব। একজন অথর্ব মানুষকে গোটা জীবন ধরে বয়ে বেড়ানো। তাই বলে ভাববেন না লরিসা মন খারাপ করে আছে। ভালোবাসার প্রিয় মানুষটিকে সারাজীবনের জন্য কাছে পাচ্ছে এতেই ও খুশি।

ওর ভাষায়,‘ আমরা দু জন দুজনাকে ভালবাসি। এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে!’

শেয়ার