২১ লাখ পরীক্ষার্থীকে নিয়ে বিএনপি’র ছিনিমিনি খেলা

jscexam
বাংলানিউজ :
কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পরীক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বিএনপি। ২১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে দেশজুড়ে অবরোধ কর্মসূচি। এতে চূড়ান্তভাবে বিঘিœত হতে চলেছে শিশুদের পরীক্ষা ও শিক্ষা জীবন।
এরই মধ্যে তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি দিয়ে ও-লেভেলের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর কেড়ে নিয়েছে দলটির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এবার জেএসসি-জেডিসির পরীক্ষার প্রথম দুটি পরীক্ষাই পড়ছে বিএনপি’র অবরোধ কর্মসূচির দিনে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। ওই দিনেই শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা।
এ বছরে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ লাখের বেশি।
অবরোধের প্রথম দিনেই জেএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জেডিসিতে থাকছে কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষা। তিন দিনের মধ্যে এই দুটি পরীক্ষারই দ্বিতীয়টিও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জেএসসিতে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা দ্বিতীয়পত্র। অন্যদিকে জেডিসি নেবে আরবি ১ম পত্রের পরীক্ষা।
কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পরীক্ষার দিন দুটিতে বিএনপি’র অবরোধ কর্মসূচির খবর উদ্বিগ্ন করেছে অনেক অভিভাবককে।
অনেকেই বাংলানিউজকে ফোন করে তাদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন। তারা এই দলটির রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিঘ্নিত করার পর এখন শিশু-কিশোরদের শিক্ষাজীবনকে বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনছেন।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সূত্রেই জানা যাচ্ছে অবরোধের প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবেন না বলেই শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে, ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করছেন।
এ বিষয়ে বাংলানিউজের কথা হয় বিএনপি’র শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকনের সঙ্গে। তিনি এই অবরোধ কর্মসূচি পালন হবেই বলে জোর দিয়ে জানান। তিনি বলেন, এসব পরীক্ষার কথা চিন্তা করে সরকারকে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে আর নয়। আমরা অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। আর নয়।
শিশুদের ভবিষ্যত প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েই গেছে এরপর কোনো কর্মসূচি আসলে তখন এ ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে এরই মধ্যে বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ঢাকা ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ড’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, এমন একটি খবর আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তবে পরিস্থিতি বুঝেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি। ৩ নভেম্বর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বোর্ডের অবস্থান জানানো হবে।
বিরোধী দলসহ সকল রাজনীতিকদের প্রতি শিশুদের ভবিষ্যত চিন্তা করে এমন কর্মসূচি না দেওয়ারও আহ্বান জানান তসলিমা বেগম।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বরাবরই রাজনীতিবিদদের বলে এসেছি পরীক্ষাগুলো এড়িয়ে এ ধরনের কর্মসূচি দিতে। আশা করি চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার আগেই বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে।

শেয়ার