সাতক্ষীরায় রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রশি টানা-টানি ॥ আজ থেকে কলম বিরতির ঘোষণা

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ ॥ দলিল রেজিস্ট্রির সময় আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থর ভাগাভাগি নিয়ে দলিল লেখক ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে রশি টানা-টানি শুরু হয়েছে। দাবি আদায়ের ল্যকে সামনে রেখে কলম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন দলিল লেখকরা। আজ বুধবার থেকে ৮৬ জন দলিল লেখক কর্মরত কলম বিরতি পালন করবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা ও দলিল লেখকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবশ্য দলিল লেখকদের কলম বিরতির বিষয়ে সদর সাব রেজিস্ট্রিার আ.ব.ম খায়রুজ্জামান জানিয়েছেন, দলিল লেখকরা কলম বিরতি করবে কি না জানিনা। তবে তিনি আগে থেকেই বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন।
জানাগেছে, ১ হাজার টাকা হতে দশ লাখ টাকা মূল্যের দলিলে প্রতি হাজারে ঘুষের টাকা আদায় করা হয় ১০ টাকা। দশ লাখ টাকার উপরে প্রতি হাজারে ৭ টাকা যা প্রতি লাখে ৭০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়াও হেবা ঘোষণা দলিলে ইউনিয়নের জমি বিঘা প্রতি ১২শ’ টাকা, পৌরসভার জমি ১ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের জমিতে প্রতি হাজারে ৫ টাকা, ১০ লাখ হইতে ৫০ লাখ টাকার জমিতে প্রতি হাজারে ৪ টাকা, এর চেয়েও বেশি হলে ৩ টাকা হারে উৎকোচ আদায় করা হয়। রদ রহিত দলিলে ইউনিয়নের জমিতে বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা, পৌরসভার জমিতে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। পাশাপাশি পাওয়ার, উইল, অছিয়াতনামা দলিলে ইউনিয়নে বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা ও পৌরসভার ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা। ভ্রম সংশোধন দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা ও বায়নাপত্র দলিল প্রতি ৫ শত টাকা। না-দাবী ও ঘোষণাপত্র ইউনিয়নে প্রতি বিঘা ১ হাজার টাকা ও পৌরসভার জমিতে বিঘা প্রতি ৩ হাজার টাকা করে ঘুষের টাকা উত্তোলন করা হয়। পাওয়ার অব এ্যাটর্নি হইতে দানপত্র করতে দলিল প্রতি ১ হাজার টাকা, দলিল প্রতি ম্যাপে ১০০ টাকা, দানের ঘোষণা (হিন্দু) ইউনিয়নে বিঘা প্রতি ২ হাজার টাকা, পৌরসভার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা ও পৌরসভার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি লাখে ১ হাজার টাকা এবং ১০ লাখের উর্দ্ধে থাকলে সে ক্ষেত্রে ৫ টাকা হারে আদায় করা হয়। এছাড়াও কমিশন দলিলে পৌরসভার মধ্যে ও তার আসপাশে কমিশন ফিস ৪ হাজার টাকা, দুরবর্তী ইউনিয়নে হলে কমিশন ফিস ৮ হাজার টাকা ও একই বাড়িতে একাধিক কমিশন দলিল করিলে সে ক্ষেত্রে প্রথম দলিলে তালিকা অনুযায়ী উৎকোচ আদায়ের পর পরবর্তী প্রতি দলিলে অর্ধেক টাকা আদায়ের করার তালিকা পাওয়াগেছে। কথিত এই তালিকাকে বলা হয় অফিস রেড। যা সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে দৈনিক লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। আর এ সমস্ত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হয় সাবেক সভাপতি আবুল কাশেমের সেরেস্থায়।
সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দলিল লেখকরা তালিকার বাইরে অফিসে ঘুষ প্রদানের নামে আরও ৩ গুন বেশি করে টাকা আদায় করে থাকেন মোয়াক্কেলদের কাছ থেকে। প্রাপ্ত টাকা থেকে অফিস এক ভাগ, দলিল লেখক সমিতি এক ভাগ ও দলিল লেখকরা এক ভাগ করে পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ আদায় কৃত অর্থের ৭০ ভাগ দলিল লেখক ও লেখকদের কথিত সমিতির ঘরে চলে যায়। বাকী এক ভাগ যায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। সূত্রটি জানায়, দলিল লেখক সমিতির নামে আইএফআইসি ব্যাংকের একাউন্টে বর্তমানে জমা আছে ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও সমিতির ১০৬ জন সদস্যের নামে ১০৬ টি এফডিআর এ প্রতি মাসে জমা দেয়া হয় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি সমিতির নেতারা কয়েকটি দফায় নানা অজুহাত দেখিয়ে আত্মসাত করেছেন আন্তত আরও ২০ লাখ টাকা। সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে এভাবে অফিসের নামে চুষে খেয়ে চলছে সাতীরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে দলিল লেখক সমিতি ও লেখকরা।
এ ব্যাপারে সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস জানান, অফিসের দুর্নীতির কারণে আমরা সাধারণ মানুষকে আর হয়রানি করতে পারছি না বলে কলম বিরতির মত কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তবে সদর সাব রেজিস্ট্রার আ.ব.ম খায়রুজ্জামান বলেছেন, সাব রেজিস্ট্রি অফিস এবং আমার নাম ব্যবহার করে দুনিয়ার আকাম করছে দলিল লেখকরা সেটাতে প্রতিবাদ করাতেই কলম বিরতি করবে বলে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার