কালীগঞ্জে সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করেছে শিবির ক্যাডাররা ॥ আ’লীগ অফিসে আগুন

habib
এসএম আহম্মদ উল্ল্রাহ বাচ্ছু, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে॥ ১৮ দলের ডাকা হরতালের তৃতীয় দিনে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ অহেদুজ্জামানের ফুলতলার অফিস। ভাঙচুরের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উপজেলার বাগবাটি আওয়ামী লীগ অফিস। অগ্নিসংযোগে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান ডেডোকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ রিপোর্টার্স কাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, হরতালের সমর্থনে জাতীয় পার্টির নেতা (মঞ্জু) উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও উপজেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে উত্তর কালীগঞ্জ শহীদ সামাদ স্মৃতি মাঠে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আগতদের হাতে ছিল দা, লোহার রড, লাঠি। দৈনিক জন্মভূমির কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ও রিপোর্টার্স কাবের সাধারণ সম্পাদক আবু হাবিবসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২ টার দিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আবু হাবিব কালীগঞ্জ ফুলতলা মোড়ে চলে যান। সমাবেশ শেষে সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত শিবির ও বিএনপি’র নেতা কর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করে পরে আসবাবপত্রে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ছবি তোলার সময় হরতাল সমর্থকরা আবু হাবিবকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালীগঞ্জে সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় হরতাল সমর্থকরা দুপুর একটার দিকে বাগবাটি আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান ডোডোকে পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। বিকেলে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাপাতালে ভর্তি করা হয়। সমাবেশ থেকে ফেরার পথে হরতাল সমর্থকরা কালীগঞ্জের নলতা চৌমুহুনী এলাকার হুমায়ুন কবীর লাল্টুর ফার্নিচারের দোকান ও নলতা কালীবাড়ি মোড়ের প্রবীর দাসের চায়ের দোকান ভাঙচুর করে।
কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক আবু হাবিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডা. মাকসুদুল আলম ছিদ্দিক অলিদ।

শেয়ার