হরিণাকুণ্ডে ইউপি চেয়ারম্যানকে বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে (৫৫) বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার দখলপুর বাজারে প্রকাশ্যে তাকে হত্যা করে দুর্বত্তরা পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতালে ডাক দিয়েছে জেলা বিএনপি। সহিংসতার আশংকায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলীয় কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দখলপুর বাজারে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ১০/১৫ জনের একদল দুর্বৃত্তরা পিছন থেকে তার উপর বোমা হামলা চালায় বোমার ¯িপ্রন্টারে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এরপর সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টি হলে দোকানাপাট বন্ধ করে তারা দিববিদিক পালাতে থাকে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল হোসেন হত্যার ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা দুপুর ১ টার দিকে হরিণাকুণ্ডু আওয়ামীলীগের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং উপজেলা মোড়ের ১০/১২ দোকান ভাংচুর করে। এলাকায় সহিংসতার আশংকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার বিকেল ৩ টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জরুরি সভাশেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সোমবার দুপুরে হরিনাকুণ্ডের দখলপুর বাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে বিএনপির উপজেলা সভাপতি ও জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খুন হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতেদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকারীদের আটকের দাবিতে কালীগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি। বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের হাটচাঁদনী মোড়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। যুবদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুবার রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শহিদুল ইসলাম, জবেদ আলী, আশরাফুজ্জামান রনি প্রমূখ। সমাবশে নেতৃবৃন্দ বিএনপি নেতা আবুল হোসেন হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অপরদিকে, হরিণাকুণ্ডে ১৪৪ ধারা জারি করে সকল রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হরিনাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বশার শহরে মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বশার জানান, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আইন শৃংখলা অবনতির আশংকা ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় হরিনাকুণ্ডু পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।

শেয়ার