সৌদিতে ৭ লাখ কর্মীর বৈধতা

জানা গেছে, সৌদিতে ৭ লাখ বাংলাদেশী কর্মী বৈধ হতে যাচ্ছেন। এটা সব দিক দিয়েই আমাদের জন্য একটা সুখবর। প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা যেমন পৃথিবীর নানা দেশে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করছেন, সেই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করছেন। এদের পাঠানো অর্থ রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজে লাগছে। বর্তমানে যে দেশগুলোতে বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় কর্মরত আছেন-তার মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম। জানা গেছে, সৌদি আরবে আমাদের প্রায় ২৬ লাখ কর্মী বিভিন্ন ধরনের পেশায় নিয়োজিত। এর মধ্যে ৭ লাখ কর্মী নানা কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন। এঁদের বৈধ করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েক মাস ধরে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদি সরকার বিদেশের অবৈধ কর্মীদের বৈধ করার শেষ সীমা ৩ নবেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশীদের স্বার্থে অনেক কিছুই করেছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম প্রশংসনীয় কাজ হলো বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মীর কাগজপত্র বৈধ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। জানা গেছে, এ কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য দেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পাঠানো হয়। রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলার অফিসে ৭ লাখ কর্মীর কাগজপত্র বৈধ করার জন্য দেশ থেকে অতিরিক্ত ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাঠানো হয়। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই বিরাট কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কর্মীর পাসপোর্ট দেয়ার কাজটি প্রশংসনীয়। তবে বাকি সাড়ে ৩ লাখ কর্মীর নতুন পাসপোর্টের দরকার নেই। তাঁদের বৈধতার জন্য কেবল কিছু কাগজপত্র ঠিক করা দরকার।
প্রবাসী বাঙালীরা প্রায়ই বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকা- বিষয়ে নানা অভিযোগ করে থাকেন। তবে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এসব ইতিবাচক কর্মকা- নিশ্চয়ই তাঁদের আশাবাদী করে তুলবে। বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাসই যাতে প্রবাসী বাঙালীদের কল্যাণে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হয় সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রবাসী বাঙালীদের কর্মকাণ্ড বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি জরুরী। সৌদি কর্তৃপক্ষ কর্মীদের চাকরিসংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়ে খুবই কঠোর। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কোন কর্মীরই একাধিক চাকরি করার বিধান নেই। কিন্তু কেউ যদি বেশি আয়ের লোভে একাধিক চাকরি করেন, তা অবশ্যই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের সম্মান সবার আগে।

শেয়ার