যশোরে হরতালের সহিংসতা ॥পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ॥ থানায় বোমা বিস্ফোরণ

Thana boma
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে সোমবার চাঁচড়ায় হামলা, নতুনহাটে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি ও সন্ধ্যায় কোতয়ালি মডেল থানা চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। নিরুত্তাপ হরতালে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির প্রকাশ্যে দাপট দেখাতে না পারলেও চোরগোপ্তা হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি-জামায়াতের হরতাল প্রত্যাখান করে শহরে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ।
হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে চাঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ফুলের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা হরতাল প্রত্যাখান করে চাঁচড়া মোড়ে অবস্থান নেন। এর কিছু সময় পর হরতাল সমর্থকরা চাঁচড়া মোড়ে পিকেটিং করতে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিকে সকাল ১০টার দিকে টহল পুলিশ সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতা মোজাহার হোসেন নল্লা ও জামায়াত কর্মী শহিদুলকে আটক করে। এর পরপরই হরতাল সমর্থক বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা জোটবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে হরতাল সমর্থকরা ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও ৫টি দোকান ভাংচুর করে। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ফুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য খায়রুজ্জামান রয়েলকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজেদ আলী মাস্টার জানান, হরতাল সমর্থক বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা মিছিল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ৫টি দোকানও ভাংচুর করে। পরে হরতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পথচারী আবেদ ও ফল বিক্রেতা জোনাব আলীসহ আরও ৮ জন আহত হন।
এদিকে, সোমবার দুপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করেছে হরতাল সমর্থক জামায়াত শিবির কর্মীরা। পরে পুলিশও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হরতাল সমর্থক জামায়াত শিবিরের একদল কর্মী সোমবার দুপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় পিকেটিং করছিল। এ সময় সেখানে একদল টহল পুলিশ যায়। পুলিশ দেখে জামায়াত শিবির কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ শুরু করে। ৮/১০টি বোমা ফাটানোর পর পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করলে হরতাল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শর্টগানের ১০/১২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে হরতাল সমর্থকরা পালিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে এ বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া একটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) শারমিন জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা থানার বাইরে থেকে থানা চত্ত্বরে একটি বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বোমাটি বিস্ফোরিত হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শেয়ার