যশোরে এখন তৈরি হয়না মানসম্পন্ন খেলোয়াড়

stadium
এম এ রাজা ॥
যশোরের প্রতিটি ইভেন্টে খেলোয়াড়দের মান তলানীর দিকে নেমে গেছে। মানসম্মত কোন খেলোয়াড় বর্তমানে নেই। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই যশোরের ক্রীড়াঙ্গন ছিল গৌরবময়। দেশ স্বাধীনের পরও সেই ধারা অব্যাহত ছিল ৯০ দশক পর্যন্ত। জাতীয় দল তথা যুব ও বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় যশোরের খেলোয়াড়রা খেলেছেন সুনামের সাথে। বর্তমান সময়ে জাতীয় মহিলা ফুটবল ও বয়সভিত্তিক নির্দিষ্ট কিছু ইভেন্ট ব্যতীত যশোরের খেলোয়াড়দের আগের সেই অবস্থান নেই।
যশোরের অনেক পরে খেলাধুলা চর্চা শুরু করে অভূতপূর্ব সাফল্য বয়ে এনেছে সাতক্ষীরা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়াসহ অনেক জেলা। সেই তুলনায় যশোরের ক্রীড়াঙ্গন অগ্রসরের চাইতে পিছিয়েছে বেশ কয়েক ধাপ। সাবেক বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, দায়সারা গোছের ঘরোয়া লিগ পরিচালনা, ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে মতানৈক্য, বিচক্ষণতার শীর্নতার কারণে যশোরের ক্রীড়ঙ্গনের মান নিম্মমূখি। এছাড়া খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে অনুশীলন না করাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন সাবেক কয়েকজন খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন যশোরের আব্দুল হাকিম, কাওছার আলী, রকিবুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান টনি, মাসুক মোহাম্মদ সাথীসহ আরো অনেকে। সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় মাসুক মোহাম্মদ সাথী বলেন, বর্তমানে তরুণরা স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে ফুটবলে অংশগ্রহণ করে না। এছাড়া আগের মতো খেলার মাঠ এবং ফুটবলের সেই চর্চা নেই। দীর্ঘদিন ধরে জেলা লিগ ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় না, হলেও তা দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হয়। তিনি যশোর ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছুর আগে নিয়মিত লিগ আয়োজনের কথা বলেন। নিয়মিত খেলা হলে খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবেই বলে তিনি জানান।
ক্রিকেটে হাসানুজ্জামান ঝড়–, তুষার ইমরান, জামাল বাবু, সৈয়দ রাসেল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জেলা কোচ আজিমুল হক আজিম নিয়মিত লিগ না হওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম সেসময় লিগের পাশাপাশি বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হতো যা খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতো। বর্তমানে এসব কোন কিছুই হয় না। খেলোয়াড় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ অনুশীলন করলেও ম্যাচ না খেললে তার দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যাবে না।
হকিতে আশিকউজ্জামান, কাওছার আলী, এথলেটিকসে মুজিবুর রহমান মল্লিক, আসমা ইয়াসমিন, সুনিতা গোস্বামী, সাথী পারভীন। সাঁতারে রেশমা, পল্লবী, ইতি, নজরুল। বর্তমানে জাতীয় সাঁতার দলের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে মাহফুজার। মাহফুজা বলেন, যে কোন খেলাতে সাফল্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। যশোরের সাঁতারুরা সেটা পায়না। সর্বোপরি অবকাঠামো সমস্যাকে তিনি মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমি যখন যশোর থেকে জাতীয় সাঁতারে অংশ গ্রহণ করেছি সে সময় আমি তৃতীয় অথবা চতুর্থ হতাম। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমি বড় ধরনের সাফল্য পেতে থাকি।
ভলিবলে রাহুল ও অজয়। কাবাডিতে জুলফিকর, আজগর, টাইগার খোকন, টেবিল টেনিসে তাপস, রিনু, বিনু, বাপ্পী, রত্মা, সীমাসহ আরও অনেক খেলোয়াড়। বাংলাদেশ এ্যাথলেট ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য নিবাস হালদার পৃষ্ঠপোষকতার অভাবকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জুনিয়র পর্যায়ে জেলার এ্যাথলেটরা ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কেউ পদক পেলে যেকোন সামরিক বাহিনীতে তাকে খেলোয়াড় কোটায় চাকরি হয়। পরবর্তীতে জেলা দলের হয়ে তারা আর খেলে না। চাকরিতে যে খেলোয়াড়রা থাকে তারা আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে খেলা থেকে অন্য পেশায় চলে যায়।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য আনিসুজ্জামান পিন্টু নিয়মিত লিগ না হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ভালো খেলোয়াড়রা বেরিয়ে এসেছে স্কুল পর্যায়ের টুর্নামেন্ট থেকে। আর এই স্কুল পর্যায়ের কোন টুর্নামেন্টই হয় না যশোরে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়ার জন্য নিয়মিত স্কুল টুর্নামেন্ট করার কথা বলেন তিনি।

শেয়ার