মাগুরায় জামায়াতের মিছিল থেকে বাড়িতে হামলা ও গুলি

মাগুরা প্রতিনিধি॥ বিএনপি-জামায়াতের মিছিল থেকে বাড়িতে গুলি ও ভাংচুরের ঘটনার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খান আলি রেজা রেজা স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে তার পরিবার দাবি করেছেন। সোমবার সকালে শহরের ভায়নার মোড়ে তার নিজ বাস ভবনে অসুস্থ্য অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
খান আলি রেজার স্ত্রী নূরে আরা অভিযোগ করেছেন, এমনিতেই তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ্য ছিলেন। বাড়ির বাইরে যেতেন না। এটা সকলেই জানে। তারপরও গত ২৫ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি-জামাতের মিছিল থেকে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়ির দোতলার শোবার ঘরের জানালায় গুলি ও ইট ছোড়া হয়। এর পরপরই তিনি আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এতেও তারা খ্যান্ত হয়নি। পরদিন পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ চলাকালেও ছাত্রদল কর্মীরা দ্বিতীয় দফায় বাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমান্ডার মোল্যা নবুয়ত আলী বলেন, জামায়াত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ বলে মনে করে। যে কারণে তারা মুক্তিযোদ্ধা খান আলি রেজা অসুস্থ্য জানার পরও বাড়ির জানালায় গুলি ও ভাংচুর করে। এটি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের ধারাবাহিক অপকর্মের অংশ। আমরা তার মৃত্যুতে শোক ও জামায়াতের অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাই।
খান আলী রেজা দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাশাপাশি উদীচী, ঘাতক দালাল নির্মূল, মাগুরা টাউন হল কাব কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অপরাধ তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। যে কারণে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত প্রতিপক্ষ হিসেবে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
তার মৃত্যুতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে মাগুরার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে ভিড় জমায়। বাদ জোহর ভায়না পৌর গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

শেয়ার