সংলাপে না এলে নির্বাচনের ‘ট্রেন ফেইল’: ইনু

Inu
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সংলাপে যোগ না দিলে বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে অপেক্ষা করা হবে না বলে ইঙ্গিত করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে সংলাপে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।”

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদ শেষের আগে আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন হবে। এই সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, বহাল থাকবে সংসদও।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী দলকে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়ে তাতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর প্রতিক্রিয়ায় নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন পাওয়ার পর তা নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বেগম জিয়া, আপনি সংলাপের ট্রেন ফেল করলে, নির্বাচনের ট্রেন ফেল করবেন, গণতন্ত্রের ট্রেন ফেল করবেন।

“আপনি ভেবে দেখুন, সংলাপের ট্রেনে উঠবেন, না কি জামায়াতের-হেফাজতের-যুদ্ধাপরাধীদের ট্রেনে করে পাকিস্তানে যাবেন?”

সংলাপের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন চায়।

বিএনপি না এলে তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে কি না- জানতে চাইলে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, “এটি একটি ভবিষ্যতের প্রশ্ন, তবে একতরফা নির্বাচন বলে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।

“বিএনপির চূড়ান্ত অবস্থান যখন দেশবাসী জানবে ,তখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, দলীয় ফোরাম, মহাজোটের শরিফ দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

শনিবার বিরোধীদলীয় নেতাকে টেলিফোন করে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা গ্রহণ না করে হরতালের পর আলোচনায় বসতে রাজি থাকার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আবার ফোন করবেন কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো দাওয়াত দিয়েছি, নতুন করে দাওয়াত দেয়ার কিছু নেই, দাওয়াত অব্যাহত আছে।”

“নির্দলীয় সরকার মানার শর্ত দেবেন না, বৈধ সরকারকে অবৈধ বলবেন না, সরকারি কর্মচারীদের উস্কানি দেবেন না। খোলা মনে সংলাপে আসুন,” বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন তিনি।

বিরোধী দলের হরতালে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়কে জানানো হয়েছে, প্রশাসন খতিয়ে দেখছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার যে টেলি কথোপকথন গণমাধ্যমে এসেছে তা সরকার প্রকাশ করেনি। অবশ্য ‘রাষ্ট্রীয় এ সংলাপ’ সম্পর্কে জানার অধিকার জনগণের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
দুই নেতার কথোপকখন সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে কিনা বা প্রকাশ করা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “যারা প্রকাশ করেছে তারাই বলতে পারবেন কার কাছ থেকে নিয়েছেন।”
গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার মধ্যে বহু প্রত্যাশিত ওই টেলিফোন আলাপ হয়, যার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সংলাপের পথ খুলবে বলে বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা।
ওইদিন প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে হরতাল প্রত্যাহার করে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় গণভবনে বসার আমন্ত্রণ জানান। তবে খালেদা জিয়া তাকে জানান, হরতাল প্রত্যাহার সম্ভব নয়, তিনি হরতালের পর ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
৩৭ মিনিট স্থায়ী এই টেলিফোন আলাপে বেশকিছু বিষয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয় দুই নেত্রীর মধ্যে।
পুরো কথোপকথনের অডিও টেপ একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হওয়ার পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আলোচনার ঝড় ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “একাত্তর টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার টেলিফোনের কথাবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ নীতিবর্হিভূত ও রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
সরকার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ওই কথোপকথন গণমাধ্যমে সম্প্রচার ‘করিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দুই নেত্রীর ফোনালাপ কোনো ব্যক্তিগত ফোনালাপ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ফোনালাপ। এটি দেশ, জাতি, সংবিধান, রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে ফোনালাপ। এটি রাষ্ট্রীয় সংলাপ, রাষ্ট্রীয় সংলাপ জনগণের সম্পত্তি, জনগণের তা জানার অধিকার আছে।”
“তবে সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রকাশ করা হয়নি”, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

শেয়ার