পাইকগাছায় হরতালে পুলিশের উপর হামলা টিয়ারসেল নিক্ষেপ ॥ গুলিবিদ্ধ ৫

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার পাইকগাছায় সড়ক অবরোধ অপসারণ করার সময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশকে ল্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিপে করে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীসহ ৫জন গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয় ৪ ব্যক্তি। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ আহত হয়েছে বলে থানাপুলিশ জানিয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও কিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, রোববার সকালে হরতাল সমর্থনে ১৮ দলীয় জোট সমর্থকরা উপজেলার কাটাখালী হতে বাঁকা বাজার পর্যন্ত রাড়–লী ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে অসংখ্য স্থানে গাছপালা, গাছের গুড়ি ও ইট দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখলে সাইকেল আরোহি থেকে শুরু করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ খবর পেয়ে থানাপুলিশ দুপুরের দিকে সড়ক অবরোধ অপসারণ করতে করতে বাঁকা বাজার পৌছায়। পরে বেলা দেড়টার দিকে ফিরে আসার সময় হরতাল সমর্থকরা সড়কে আবারও বেরিকেট দিয়ে রাখলে বাঁকা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ অবরোধ অপসারণ করার চেষ্টা করলে হরতাল সমর্থকরা বাঁধা দেয় এবং পুলিশকে ল্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এসময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় আরাজি ভবানীপুর গ্রামের রফিকুল সরদারের অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া কন্যা সুমাইয়া (১৪), ফয়েজউদ্দিন গাজীর স্ত্রী খালেদা (৩০), শ্রীকণ্ঠপুর গ্রামের আরশাদ আলী সরদারের স্ত্রী সুরজাহান বিবি (৫০), জজ আলী শেখের ছেলে শহীদুল (৪০) ও ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন (২০)। লাঠিচার্জে আহত হয় আফসার গাজীর ছেলে মাসুমবিল্লাহ (১৮), আহম্মদ সানার ছেলে লিটন (২৭) ও সবুর সরদারের ছেলে মামুন (১৮)। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ আহত হয়। ওসি এম মসিউর রহমান জানান-১৮ দলীয় হরতাল সমর্থকরা বাঁকা বাজারে জোরপূর্বক ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং সড়কের অসংখ্য স্থানে গাছপালা ও ইটপাটকেল ফেলে সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ খবর পেয়ে সড়ক অপসারণ করার মাধ্যমে বাঁকা বাজার পৌছে হয় এবং ফিরে আসার সময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের উপর হামলা ও ইটপাটকেল ছুঁড়লে আত্মরার্থে ৯৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড টিয়ারসেল নিপে করা হয়। এ ঘটনায় ৫পুলিশ আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল এবং কেউ আটক হয়নি।

শেয়ার