নওয়াপাড়ায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হত্যা ॥ আটক-৫

Shimul hotta copy
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিনে হরতালকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলকে (৩৫) নৃশংসভাবে খুন করেছে এবং তার ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রবাসে অগ্নিসংযোগসহ হাইওয়ে পুলিশ থানা ব্যারাকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোরের শিল্প শহর নওয়াপাড়ায় হাইওয়ে পুলিশ থানার একটি পরিত্যাক্ত ভবনে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আলমগীর হোসেন শিমুলের সাথে থাকা অপর চারজনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় শিমুলের নোয়া মাইক্রোবাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জানায়, আলমগীর হোসেন শিমুল তার সঙ্গীদের নিয়ে তার নিজস্ব মাইক্রোবাসযোগে হরতালের বিপক্ষে যশোর-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সামনে পৌছালে হরতালকারীরা অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় শিমুল হাইওয়ে থানার একটি পরিত্যাক্ত ভবনে আশ্রয় নিলে তারা সেখানেই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে এবং ওই ভবনে পুলিশের ব্যবহৃত আসবাব পত্র ভাংচুর করে। তার সঙ্গীদেরকে ও কুপিয়ে পাশে ভৈরব নদের তীরে ফেলে রেখে য়ায় । আহতরা হলেন, আরমান হোসেন (৩০), মাইক্রোবাস চালক লিমন হোসেন (৩২), ইনামুল ইসলাম (২৮) ও বায়েজিদ হোসেন (২৫)। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর মর্গে পাঠিয়েছে। নওয়াপাড়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শিমুল হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আতংকে নওয়াপাড়া এলাকার সকল স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর পরই উপজেলা আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করেএবং বিকাল ৩ টায় উপজেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। অভয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বলেন, “ বিএনপি-জাময়াতের সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন শিমুলকে খুন করেছে।” অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আব্দুস ছালেক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের অভিযান চলছে। এরই মধ্যে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম,যশোরের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শেয়ার