হরতালে দেশব্যাপি তাণ্ডব, নিহত ৬

hartal photo lead
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রোববার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের টানা হরতালের প্রথম দিনে বিএনপি জামায়াতের তাণ্ডবে ৬ জেলায় সহিংসতায় কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক।
এর মধ্যে যশোরের অভয়নগরে বিএনপি-জামায়াতের মিছিল থেকে হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা, ফরিদপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদলকর্মী, পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় জামায়াতকর্মী এবং পিরোজপুরের জিয়ানগরে হরতালকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্বপন শীল (৩৫) নামের যুবলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে নওয়াপাড়া ফেরিঘাট পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলকে(৩৫)হত্যা করা হয়। ওই সময় ওই এলাকায় শিমুল তার নেতাকর্মী নিয়ে হরতালবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে রাজপথে ছিলেন।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আবদুস সালেক শিমুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, বিএনপি জামায়াতের মিছিল থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর হামলার শিকার হয়ে শিমুল ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় হরতাল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারুফ হোসেন (২২) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছে।
হরতালের সমর্থনে রোববার সকাল সাতটার দিকে নগরকান্দার জুঙ্গুরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে বিএনপি ও যুবদলকর্মীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এসময় পুলিশের গুলিতেই ওই যুবদলকর্মী মারা গেছেন বলে বিএনপির দাবি। নিহত মারুফের বাড়ি নগরকান্দা পৌর এলাকার মিনার গ্রামে। তার পিতার নাম রাবু শেখ।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হোসেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় নারীসহ আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় জুলফিকার আলী জুলহাস (৪০) নামের জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় জামায়াতকর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শিবিরের ঈশ্বরদী থানা সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন।

জুলফিকার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি গ্রামের মো. শফির ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে তারা জানান, হরতালের সময় মুলাডুলির রেলওয়ে গেট এলাকায় পিকেটিং করছিল জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এতে বাধা দিলে পিকেটারদের সঙ্গে স্থানীয় আ’ লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় উভয়দলের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এতে জামায়াতকর্মী জুলফিকার গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এছাড়া শিবিরের ঈশ্বরদী থানা সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় ফরিদ হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের জিয়ানগরে হরতালকারী ক্যাডারদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্বপন শীল(৩৫) নামের যুবলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছে।
যুবলীগকর্মী নিহত হওয়া ছাড়াও চর বলেশ্বর এলাকায় যুবলীগের সমর্থক বাপ্পি মোল্লা (২২) ও তার বাবা আ’লীগের সমর্থক আলাউদ্দিন মোল্লাকে (৫০) কুপিয়ে জখম করেছে হরতালকারীরা। তাদের পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানায়, ভোর ৪টার দিকে কয়েকজন হরতাল সমর্থনকারী বালিপাড়া এলাকার সুকুমার শীলের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে স্বপনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ায় হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিল বের হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় শাহজাহান নামের একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
রোববার দুপুরে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের সমর্থনে গাবতলীর তিন মাথা মোড়ে মিছিল বের করে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম হেলালের পক্ষের নেতাকর্মীরা।

এ সময় হেলালের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পৌরসভার মেয়র মোর্শেদ মিল্টনের কর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে ককটেল বিস্ফোরণ, দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে বেশ ক’জন আহত হয়।

আহতদের উদ্ধার করে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা শাহজাহানের মৃত্যু হয়। তিনি গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সিদ্দিক নামে তাদের ১জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এতে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

সংঘর্ষে বেলা ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার বান্টি ও পাঁচরুখী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

শেয়ার