যশোরে হরতালে বিএনপি জামায়াতের বোমা ও গুলি বর্ষণ

hartal photo lead
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে হরতাল চলাকালে বিএনপি জামায়াত শিবির ব্যাপক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্মকান্ড চালিয়েছে। বিএনপি জামায়াতের ক্যাডাররা সারা শহরে লাঠিসোটা ও দেশি বিদেশি অস্ত্র বোমা নিয়ে ব্যাপক তান্ডব সৃষ্টি করে। দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণ করে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা। এদিন রূপদিয়া বাজারে সাংবাদিক লাবুয়াল হক রিপনকে মারপিট করে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও মণিরামপুরে ৮ পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আগুন দেয় পিকআপে। এছাড়া সদরের বারীনগর বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা শাহাজানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আহত সাংবাদিক ও পুলিশদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবশ্য পরে আওয়ামী লেিগর নেতাকর্মীরা মাঠে আসলে হটে যায় জামায়াত বিএনপি’র সশস্ত্্র ক্যাডাররা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সকাল থেকে দড়াটানাসহ শহরের বিভিন্নস্থানে লাঠি, দা, বোমা নিয়ে মহড়া দেয় ছাত্রদল ও শিবির ক্যাডাররা। বেলা ১১ টার দিকে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে তারা নিজেরা ককটেল ফুটিয়ে প্রথমে আতংক সৃষ্টি করে। পরে ছাত্রদল ও শিবির ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘোপ এলাকা থেকে দড়াটানায় এসে ব্রিজের উপর থাকা ছোট ছোট ফলের দোকান ও রিক্সা ভাংচুর করে। এসময় বিভিন্ন বন্ধ থাকা দোকানে ইট ছুড়ে মারা হয়। একই সাথে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত আওয়ামী লীগের উন্নয়ন পোস্টার ভাংচুর করে। পরে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর কিছুক্ষণ পর জামায়াত শিবিরের হামলায় নিহত নওয়াপাড়া পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিমুলের লাশ দেখতে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ জেলার কয়েকজন নেতা। তিনি দড়াটানা পার হয়ে হাসপাতালের গেট অতিক্রমকালে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা পিছন দিক থেকে তাকে লক্ষ করে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণ করে। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগানের গুলি ও গ্যাসগান ব্যবহার করে। পরে ছাত্রলীগের একদল কর্মী ধাওয়া করলে হরতাল সমর্থকরা পিছু হটে ঘোপে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের বাড়ির দিকে চলে যায়।এর পর পুরো শহর নিয়ন্ত্রনে রাখে আওয়ামী লীগ।শাহীন চাকলাদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি হাসপাতালে প্রবেশকালে বৃষ্টির মত বোমা ও গুলি বর্ষণ শুরু হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্যাসগান ও শর্টগানের গুলিবর্ষণ করে। এদিকে, সকাল ১০টার দিকে রূপদিয়া এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সমাজের কথা’র স্টাফ রিপোর্টার ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে)’র সদস্য লাবুয়াল হক রিপন। হামলার শিকার রিপন জানান, সকালে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য বসুন্দিয়া এলাকা থেকে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। মুনসেফপুর মোড়ে হরতাল সমর্থক জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা তার গতিরোধ করে। জামায়াত নেতা আমিনুর মেম্বরের নেতৃত্বে তাকে মারপিটের পর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ল্যাবটপ কেড়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। কোতোয়ালি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনার প্রতিবাদে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেসক্লাব চত্বর থেকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও দড়াটানায় মানববন্ধন করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেইউজে’র সাবেক সভাপতি কিরন সাহা ও বর্তমান সভাপতি সাজ্জাদ গণি খান রিমন।
অপরদিকে, যশোর-মণিরামপুর সড়কের কুয়াদা বাজার এলাকায় জামায়াত শিবির ক্যাডারদের হামলায় এসআই ওহিদুজ্জামানসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই জহুরুল হক জানান, কোতোয়ালি পুলিশের রিকুইজিশন করা দু’টি পিকআপ ভ্যান নিয়ে টহল দল দুপুরে কুয়াদা বাজার এলাকায় যায়। তারা কুয়াদা বাজারে পৌঁছালে হারতাল সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা একটি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর করে এবং অপরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ আতিয়ার, সাত্তার, এবি মোস্তফা, ওহিদুজ্জামানকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর এএসআই ইসরাফিল, সাঈদ হোসেন, শামিম হোসেন ও আলী হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া মণিরামপুর-টেকেরঘাট সড়কের ৪টি রেইন্ট্রি গাছ ও রাজগঞ্জ-মণিরামপুর সড়কের চন্ডিপুর এলাকায় আরও ৫/৬টি গাছ কেটে হরতালকারীরা অবরোধ সৃষ্টি করে।
অপরদিকে, সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের সাতমাইল বাজারে আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়াতের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। এছাড়া বাজারের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও ১টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে হামলাকারীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।রাতে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাজারে দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষ দর্শীরা হরতাল পালনের লক্ষ্যে স্থানীয় হৈবতপুর ইউনিয়নের বারীনগর সাতমাইল বাজারে লাঠি, হাসুয়া, রামদা, চাপাতি, হাতবোমা নিয়ে জড়ো হতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও তাদের প্রতিহত করতে প্রস্তুতি নেয়। এ সময় হঠাৎ শিবির কর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লক্ষ্য করে ৪টি হাতমোবার বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহুর্তের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ সময় হৈবতপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজান আলী আহত হলে সংঘর্ষ আরো ভয়বহ আকার ধারণ করে। এ সময় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাজান আলী, শিবির কর্মী মনিরুল ইসলাম মনির, কলেজ ছাত্র শিমুল হোসেনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের সময় জামায়াত শিবির ক্যাডাররা আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এছাড়া জামায়াত শিবির ক্যাডাররা শাহাজানের ফলের দোকান, মামুনের মোবাইলের দোকান, স্থানীয় ইউপি অফিস, ইজ্জত আলীর মার্কেটে ব্যাপক ভাংচুর করে। এছাড়া জামায়াত শিবির ক্যাডাররা মথুরাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করে।

শেয়ার