আবার সোনার চালান আটক

বিমানে সোনা চোরাচালান নতুন কোন ঘটনা নয়। এবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাাতিক বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ৩৩ কেজি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিমানবন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষ। ২২ অক্টোবর সকালে ‘ফ্লাই দুবাই’ নামের বিমানটিতে আটককৃত এই স্বর্ণবারের বর্তমান মূল্য ১৩ কোটি টাকা। কয়েক মাস আগেই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ধরা পড়েছে বেশ কয়টি। গত ২৪ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাাতিক বিমানবন্দরে ১২৪ কেজি সোনার বার ধরা পড়ে যার বাজারমূল্য ছিল ৫৪ কোটি টাকা। এর আগের দিন চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি বিমানে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের লাগেজ থেকে ২০ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়। এইসব ঘটনা প্রমাণ করে সোনা চোরাচালানের বিষয়টি এখন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। অবৈধ পথে সোনা আনলে সরকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হয়। জানা গেছে সোনা বৈধপথে আনলে এতে প্রচুর শুল্ক দিতে হয়। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে সোনা আসছে বলে অনেকের ধারণা। তথ্য মতে জানা যায়, বাংলাদেশে দুবাইয়ে বসবাসকারী কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী এ দেশে সোনা পাচারের কাজ করেন। সিঙ্গাপুর, দোহা, হংকংয়েও এই পাচারকারী চক্রের লোকজন অবস্থান করেন। মূলত এসব রুট থেকে যাত্রীদের টাকা দিয়ে অথবা বিমান টিকেটের বিনিময়ে কখনও ফুলদানির ভেতর, কখনও জুতার ভেতর ও কার্বন পেপারে সোনার বার এদেশে পাচার হয়ে আসে। যাবজ্জীবন শাস্তি হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক সোনা চোরাকারবারী মাত্র তিন মাস ছয় দিন পর জেল থেকে বেরিয়ে আবার চোরাচালানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিষয় যাই হোক না কেন দেশে অবৈধ পথে সোনা আসছে এবং তা ধরাও পড়ছে। অবৈধ চালানের বিপুল সোনা ধরা পড়ার বিষয়টি অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কর্তৃপক্ষকে আরও তৎপর হতে হবে যেন কোন অবস্থাতেই পাচারকারীরা যাত্রী সেজে বিমানে সোনা পাচার করতে না পারে। দেশী-বিদেশী বা প্রভাবশালী ক্ষমতাধর কোন ব্যক্তি যেন কোন অবস্থাতে সোনা চোরাচালান করার সুযোগ না পায় সে বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবার সময় এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরী দেশ ও জাতির স্বার্থে।

শেয়ার