সীমান্তরক্ষী হত্যার জেরে ১৬ বিদ্রোহীর ফাঁসি দিল ইরান!

Hanging
বাংলানিউজ॥ পাকিস্তান সীমান্তে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৭ সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার জবাবে কারাগারে আটক ১৬ বিদ্রোহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার!
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতরাতে সীমান্তে হামলকারী রাষ্ট্রবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটির সঙ্গে কারাবন্দি এসব বিদ্রোহীর যোগাযোগ ছিল।
সংবাদ মাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী শহর সারাভানের জাহেদান কারাগারে বিদ্রোহীদের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মারজিয়েহ জানান, সাভারান সীমান্তে নিরাপত্তারক্ষী হত্যার জবাবে জাহেদান কারাগারে বিদ্রোহী দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৬ ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
কারাবন্দি এইসব বিদ্রোহী শুক্রবার দিনগত রাতের হামলার সঙ্গে জড়িত নয় বলেও নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমগুলো। তারপরও তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাছাড়া, এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকারও কেউ করেনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুর্বৃত্ত অথবা ইসলামি উগ্রবাদীরা এ হামলার জন্য দায়ী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের পেছনে মাদক পাচারকারীরা নাকি বিদ্রোহী পক্ষের কোনো সশস্ত্র দল দায়ী সে বিষয়ে জানতেও তদন্ত করছে ইরান সরকার। কারণ, এর আগে দু’টি পক্ষই দেশটির সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রিয় স্থাপনারও ওপর এ ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের কাছে পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত এলাকা জাতিগত সংঘাত ও জঙ্গি হামলার কারণে অনেকদিন ধরেই অশান্ত হয়ে আছে।
আফগানিস্তান ও ইউরোপে মাদক পাচারে ইরানকে একটি রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশটির সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ শিয়া সমর্থিত সরকারের বৈষম্যের ব্যাপারে সবসময়ই অভিযোগ করে আসছে। আর বৈষম্যের এ সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ওই সব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

শেয়ার