স্পিডবোট ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্কুল শিক্ষক নিহত

boad
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কাস করা হলো না সুমন রহমানের (২১)। একইভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারলেন না স্কুল শিক ওয়ালিদ (২৮)। স্পিডবোট ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে লাশ হলেন তারা। নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের সোহরাব হোসেন সরদারের ছেলে সুমন রহমান ও ওয়ালিদ একই উপজেলার ধোপাদহ গ্রামের হারুন শিকদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার স্টাম্পফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন সুমন রহমান ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন। সুমন রহমানের আত্মীয় রবিউল জানান, নিজবাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়া হলে দুদিনে তার কোন সন্ধান পায়নি পরিবারের সদস্যরা। পরে পরিবার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু করার এক পর্যায়ে সুমনের কাকা সিরাজ বৃহস্পতিবার মাওয়া-কাওরাকান্দি এলাকায় নদীর পাড়ে সুমনের লাশ সনাক্ত করে।
এদিকে, ওয়ালিদ ঢাকা জেলার দোহার থানার দাররা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক পদে চাকুরি করতেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন ওয়ালিদ। ওয়ালিদের আত্মীয় ধোপাদহ গ্রামের শাহ আলম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নিজবাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়া হন। অনেক রাত পর্যন্ত অপোয় থাকার পর ফোনে ওয়ালিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তার পরিবার। পরে দাররা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপরে সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন পোঁছায়নি। চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় মাওয়া-কাওরাকান্দি এলাকার মানুষের ফোন পেয়ে জানতে পারে মাওয়া-কাওরাকান্দি রুটে পদ্মা নদীর মাঝে স্পিডবোট ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওয়ালিদ নদীর পানিতে পড়ে মৃত্যু বরণ করেছে। ওয়ালিদের মানিব্যাগে থাকা মোবাইল সিমের সূত্র ধরে তারা ওয়ালিদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ধোপাদহ গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে ওয়ালিদের লাশ দাফন করা হযেছে। নিহত সুমন এবং ওয়ালিদ একই স্পিডবোটের যাত্রী ছিলেন।

শেয়ার