শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নামে জামায়াত বিএনপি’র তাণ্ডব

Lead
সমাজের কথা ডেস্ক ॥
বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নামে সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। বিএনপি জামায়াত-শিবির এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে ত্রিমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক। কক্সবাজারে চকরিয়ায় ২, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৩, নীলফামারীর জলঢাকায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশ-বিজিবি’র সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তার আহমদের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাদশা (২৮) ও কাকারা ইউনিয়নের মাইজকাকারা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মিজান (১৮)।
আহতদের মধ্যে পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজল আহমদের ছেলে জমির উদ্দিন (২২), আমিনের ছেলে তোফায়েল (১৮), কাকারা ইউনিয়নের পুলেরছড়া গ্রামের আহমদ কবিরের ছেলে আশেকউদ্দিনকে (২৮) চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত কুমার বড়ুয়া ২ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩ পুলিশ ও এক সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহত নেতাকর্মীরা হলেন- ফরিদগঞ্জে পূর্ব গাজীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর প্রধান (২৬), বড়ালী গ্রামের যুবদল কর্মী শরিফ হোসেন (৩০) এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার বারপাইকা আবদুল আলীর ছেলে আরিফ(২৪)।
শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপির সভাপিত প্রকৌশলী মোমিনুল হক তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এর মধ্যে আরিফ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শরিফ চাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং জাহাঙ্গীরকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায় বলে জানান জেলা সভাপতি।

নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে র‌্যাব, পুলিশের ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় মোসলেম উদ্দিন (৩২) নামে এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে জলঢাকা পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মোসলেম জলঢাকা পৌরসভার ডাঙ্গাপাড়া কাজীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও চাইনিস রাইফেলের গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।
এ ঘটনার পর গোটা উপজেলায় পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে র‌্যাবের টহলের পাশাপাশি রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়াও নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, কুমিল্লা, বান্দবান, রাঙামাটি, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আ’লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মীকে।

যশোরে বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নামে উগ্র কর্মকান্ড করেছে। দলের ক্যাডারদের পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের ভাড়া করা ক্যাডার নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তারা সমাবেশ করেছে। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উন্নয়ন প্যানা সাইন বোর্ড ছিঁড়ে ফেলে। তাদের এ কর্মকান্ডে জনগণ থিক্কার জানিয়েছে।
প্রশাসনের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়ে ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। কিন্তু এসমাবেশে লাঠিসোটা নিয়ে জঙ্গিবেশে উপস্থিত হয় বিএনপি জমায়াত শিবিরের ক্যাডাররা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের জঙ্গিবেশে সমাবেশে যোগ দিতে দেখে ধিক্কার জানায় শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারপরও সমাবেশে এসে মনিহার এলাকার আশাপাশে বিভিন্ন স্থানে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত উন্নয়ন প্যানা সাইন বোর্ড ছিঁড়ে ফেলে তারা। তাদের এই জঘন্য কাজের জন্য মানুষ ছি ছি করেছে। এদিকে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ১৮ দলের সমাবেশ হলেও যুদ্ধাপারাধের অভিযোগে সাজা প্রাপ্ত দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে সমাবেত হন জামায়াত শিবির। তারা দলের যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির আসামি নিজামী, কাদের মোল্লা, সাঈদীসহ শীর্ষ রাজাকারদের ছবি সংবলিত প্লেকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশে শ্লোগান দিতে থাকে। শিবির কর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে শিবির প্রকাশ্যে এভাবে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও আজকের সমাবেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নেতাকমীদের নিয়ে এসে জামায়াত শিবির মহড়া দেয়। কিন্তু ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রাজাকারদের মুক্তি চাওয়ায় বিএনপির অনেক উদারপন্থি নেতাও রেগে যান।

শেয়ার