যশোর পৌরসভার ১৪৩ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারনে মালিকদের নানা অজুহাত

risky house
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
বারবার নোটিশ দেয়ার পরও যশোর পৌরসভার ১৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার তাগিদ আমলে নিচ্ছে না বাড়ির মালিকরা। নানা অজুহাতে তারা কালক্ষেপন করছেন। ফলে হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে বসবাস, ব্যবসা বাণিজ্য, অফিস ও ধর্মীয় উপসানা চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ।
সূত্র জানায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত ১’শ ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে চাঁচড়ার শ্রীশ্রী দশ মহাবিদ্যা মন্দির ভবন শ্রী রাধা কৃষ্ণ বিগ্রহ মাড়য়ারি মন্দির, গরীবশাহ রোডের আঞ্জুমানারা সেবা সংঘ, চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার বিএডিসি ভবন, এমএম কলেজ পুরাতন হোস্টেল এবং মুজিব সড়কের স্কাউটস ভবন উল্লেখযোগ্য। গত ২৬ জুন চাঁচড়ার দশ মহাবিদ্যা মন্দিরের একাংশ ভেঙে পড়ে দুই সহোদর নিহত হন। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ চি‎িত করে একাধিকবার পৌরসভার পক্ষ থেকে নোটিশ দেয়া হলেও মালিকরা নানাভাবে টালবাহানা করছেন। পৌর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে।
পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ সুলতানা সাজিয়া জানান, ঝুঁকিপূণ ভবন চিহ্নিতের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্ণি‎ত করে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ দেয়ার পর ভবন মালিকরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে পৌরসভায় রিপোর্ট করছেন। ভবন নিয়ে মামলা, ভাড়াটিয়া নামছে না, আবার কোন কোন ভবন মালিকের বিকল্প বাসস্থান না থাকায় ভবন ভেঙে ফেলতে রাজি হচ্ছে না। আবার কোন কোন মালিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করে চাকচিক্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে যশোর পৌরসভার সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুতকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক কমিটির প্রধান ও ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী নাজির আহমেদ মুন্নু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিকদের বারবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। মালিকরা নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপন করছেন। এছাড়াও পৌরসভার প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাকশন নেয়া যাচ্ছে না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত হলেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা হবে। তবে কবে নাগাদ এ অভিযান চালানো হবে তা তিনি নিশ্চিত করতে পানেনি।

শেয়ার