মমিনুলের শতকে ম্যাচ বাঁচানোর পথে বাংলাদেশ

Mominul
সমাজের কথা ডেস্ক॥ টেস্টের মেজাজে দ্বিতীয় ইনিংস খেলে ম্যাচ বাঁচানোর দিকেই এগুচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে অর্ধশতক করে তামিম ইকবাল বিদায় নিলেও টানা দুই টেস্টে শতক করে টিকে আছেন মমিনুল হক।
ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন ৩ উইকেটে ২৬৯ রান করে নিউ জিল্যান্ডের চেয়ে ১১৪ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা।

টানা দ্বিতীয় টেস্টে শতক হাঁকানো মমিনুল ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন। তার ২২৫ বলের ইনিংসে চার ১৬টি। সঙ্গী সাকিব আল হাসান ব্যাট করছেন ৩২ রানে। চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজনে।

বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ৮ উইকেটে ৪১৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ৪৩৭ রানে অলআউট হয় অতিথিরা।

নবম উইকেটে বিজে ওয়াটলিং ও ইশ সোধির ৯৩ রানের জুটি থেমেছে রান আউটে। আর চট্টগ্রাম টেস্টে দশম উইকেটে ১২৭ রানের চমৎকার জুটি গড়া ট্রেন্ট বোল্ট (৪) এবার দ্রুতই ফিরেছেন। আব্দুর রাজ্জাকের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বোল্ট বিদায় নেয়ার সময় ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন ওয়াটলিং।

প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানের বেশি করতে না পারায় ১৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ শুরুতেই হারায় এনামুল হক ও মার্শাল আইয়ুবকে।

এনামুল হককে (২২) স্লিপে পিটার ফুলটনের ক্যাচে পরিণত করে ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার কৃতিত্ব প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া নিল ওয়াগনারের।

বেশিক্ষণ টেকেননি মার্শাল আইয়ুবও (৯)। দলীয় ৫৫ রানে স্লিপে রস টেইলরের হাতে ধরা পড়ে ওয়াগনারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।

এরপরই শুরু তামিম, মমিনুলের প্রতিরোধ। বাংলাদেশের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ছিলেন ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি। প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে আউট হওয়া তামিম এবার খেলেছেন ৭০ রানের সময়োপযোগী ইনিংস।

কেন উইলিয়ামসনের বল কাট করতে গিয়ে তামিম স্লিপে টেইলের ক্যাচে পরিণত হলে ভাঙে ৫৭ ওভার স্থায়ী জুটি।

২১৮ বলে চারটি চারের সাহায্যে এ রান করার পথে তৃতীয় উইকেটে মমিনুলের ১৫৭ রানের চমৎকার জুটি উপহার দেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই উইকেট জুটিতে এটাই সর্বোচ্চ রান। গত টেস্টেই মার্শালের সঙ্গে ১২৬ রান করেছিলেন মমিনুল।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি স্বাগতিকদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটিও। এর আগে ২০০৮ সালে ডুনেডিনে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬১ রান করেছিলেন তামিম ও জুনায়েদ সিদ্দিক।

বুধবার শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা নাসির নিউ জিল্যান্ডের লিড ১৬০ রানের ভেতর রাখা আর প্রথম ইনিংসের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার কথা বলেছিলেন। বৃহস্পতিবার ঠিক তাই করে দেখালো স্বাগতিকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৮২ (তামিম ৯৫, মমিনুল ৪৭, মার্শাল ৪১; ওয়াগনার ৫/৬৪, সোধি ৩/৫৯) ও ২৬৯/৩ (তামিম ৭০, এনামুল ২২, মার্শাল ৯, মমিনুল ১২৬*, সাকিব ৩২*; ওয়াগনার ২/৫২, উইলিয়ামসন ১/৪৪)

নিউ জিল্যান্ড: ৪৩৭ (ফুলটন ১৪, রাদারফোর্ড ১৩, উইলিয়ামসন ৬২, টেইলর ৫৩, ম্যাককালাম ১১, অ্যান্ডারসন ১১৬, ওয়াটলিং ৭০, ব্রেসওয়েল ১৭, ওয়াগনার ৮, সোধি ৫৮, বোল্ট ৪; সাকিব ৫/১০৩, রাজ্জাক ২/৯৬, নাসির ১/৭, আল-আমিন ১/৫৮)

শেয়ার