মণিরামপুরে কালো পোশাক পরে শিবিরের বোমা হামলা ও ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ মণিরামপুরে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বিএনপি-জামায়াত স্মরণ কালের ভয়াবহ তান্ডব চালিয়েছে। এসময় পৌর শহরে বৃষ্টির মত বোমার বিষ্ফোরণ ঘটালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিতে আসা জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডার বাহিনী এ তান্ডবের সময় উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, যুবলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলরের বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাটসহ পৌর শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সমাবেশে যোগ দিতে আসা জামায়াত-শিবিরের মিছিলে মাথায় হেলমেট ও কালোপোষাক পরিহিত বিশেষ বাহিনীর হাতে ছিল লোহার রড, রামদা ও কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ বহনকারীদের রাস্তায় একসাথে হেটে আসতে দেখে সাধারণ মানুষ হতচকিত হয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে। দূর থেকে দেখে কেউ কেউ বলেন পিছনে র‌্যাব আসছে কিন্তু সামনে আসতেই দেখা যায় ওই বিশেষ বাহিনীকে। এ দৃশ্যের পর মণিরামপুর পৌর শহরের সব দোকান পাট ও রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ দিন আওয়ামীলীগের কোন কর্মসূচি না থাকায় বাজারে দলটির নেতা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম। পৌর শহরে তান্ডবের সময় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়। এ কারনে কোন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক তান্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার উপজেলা বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে আসে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। সন্ধ্যার পূর্বে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে যখন সমাবেশ চলছিল ঠিক তখনই জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী আ’লীগের দলীয় কার্যালয় ভাংচুর চালায়। এসময় তাদের সাথে বিএনপি’র অতি উৎসাহী যুব ও ছাত্রদলের একটি গ্রুপ অংশ নিয়ে পৌর শহরের দূর্গাপুর গ্রামে পৌর কাউন্সিলর আদম আলীর বাড়িতে বৃষ্টির মত বোমা নিক্ষেপসহ ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। বোমার আঘাতে মিন্টু নামে এক যুবকের হাত উড়ে যায় বলে জানাগেছে। এসময় বাজারে অসংখ্য বোমা বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক ছড়িয়ে দেয়। তাদের হাতে বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন পালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরসহ পৌর শহরে টানানো ব্যনার ও ফেষ্টুন নামিয়ে তা ভেঙ্গে ফেলে। প্রায় আধা ঘন্টা ব্যাপী চালানো তান্ডবের সময় কোন পুলিশের দেখা মেলেনি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় এমন তান্ডব চলে। জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বল্প সংখ্যক পুলিশ দিয়ে তাদের মোকাবেলা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার