কেশবপুরে কপোতাক্ষের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে, বাঁধে ফাটল এলাকাবাসী আতঙ্কিত

কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাঁধ ধ্বসে বরণডালি গ্রামের মীরেরডাঙ্গা এলাকা প্লাবিত	-সমাজের কথা
কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাঁধ ধ্বসে বরণডালি গ্রামের মীরেরডাঙ্গা এলাকা প্লাবিত -সমাজের কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর॥ কেশবপুরে কপোতা নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ও বাতাসে পানির ঢেউয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে যাচ্ছে। এদিকে ধ্বস ঠেকাতে গ্রামবাসিকে সহযোগিতার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র দু হাজার খালি বস্তা সরবরাহ করে দায়িত্ব শেষ করায় এলাকার মানুষের মাঝে ােভের সঞ্চার হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুনভাবে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
কেশবপুর অংশে কপোতা নদের বিস্তৃৃতি ২৮.৫০ কিলোমিটার হলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বরণডালি এলাকার ৩ কিলোমিটার বাঁধে ইদুর বাসা বেঁধে অসংখ্য গোগা সৃষ্টি করেছে। পানির চাপে এ বাঁধটির ৯টি স্থানে ধ্বস নেমেছে । অতি বৃষ্টির পানির সাথে কপোতারে কেশবপুর অংশের উজানের পানিতে অন্ততঃ ২২ টি গ্রামের অর্ধ ল মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবণ যাপন করছে। গত তিন মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের জন্য সরকারিভাবে মাত্র ১১ টন খয়রাতি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মানুষ শুকনা মাটির অভাবে বাড়ি ঘর ছেড়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। খোলা হয়নি কোন আশ্রয় কেন্দ্র। অনেকে বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। দূর্ভোগের শিকার মানুষ পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দূর্গত এলাকা ঘোষণাসহ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা ও পর্যাপ্ত ত্রাণের দাবি জানিয়ে কপোতা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। দূর্গত নারী পুরুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর ঘেরাও করে ত্রাণের দাবি জানালেও তাদের সহায়তায় সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থা এগিয়ে আসেনি। কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটি ইতোমধ্যে নদ খনন, দূর্গত মানুষের পর্যাপ্ত ত্রাণের দাবিতে নদী অববাহিকার যশোর ও সাতীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসুচি দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রায় আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দ নেই, তবে স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রার যে কাজ শুরু করেছে সে কাজের জন্য ২ হাজার খালি বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়াও কপোতা নদ অববাহিকার জলাবদ্ধতা দুরীকরণ প্রকল্পে ২৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র ৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কপোতারে পাটকেলঘাটা ব্রীজ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার খননে টেন্ডার হয়ে কার্যাদেশ দিলেও ১৬ গ্র“পের ঠিকাদাররা এখনও কাজ শুরু করেনি। এ ছাড়াও কাছিঘাটা বাজার থেকে জেঠুয়া বাজার পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার খননের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে ১ নভেম্বর। জরুরী ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পানি উন্নয়নবোর্ড ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসমান স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খননের সিদ্ধান্ত নিলেও সে কাজ এখনও শুরু হয়নি। অপরদিকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতা নদের সংযোগ শালিখা খাল খননের কাজ শেষ হলেও লস্কর খালের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বৃহষ্পতিবার সরেজমিন এলাকায় গেলে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা বরণডালি গ্রামের কামরুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে। পানি উন্নয়নবোর্ড বাঁধ রায় মাত্র ২ হাজার খালি বস্তা দিয়েছে। সরকারিভাবে বল্লি, চাচ, দঁড়ি সহ আনুষঙ্গিক খরচ না দিলে বাঁধ রা করা দুরুহ হয়ে পড়বে। এর ফলে ব্যাপক এলাকা তিগ্রস্থ হবে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে।

শেয়ার