১৮ দলের নাশকতা প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ

Aowamilig
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ২৫ অক্টোবর নিয়ে বিএনপি-জামায়াত তথা ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশের নামে সহিংসতা প্রস্তুতির আশঙ্কার সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, মহানগরীগুলোতে পুলিশের সঙ্গে নেমেছে বিজিবি, চলছে ধর-পাকড়।
তারপরও বিএনপি যে কোনো মূল্যে তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ করার অবস্থানে অনঢ় রয়েছে। যদিও নয়াপল্টনের পরিবর্তে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে তারা। আর সমাবেশের অনুমতি চেয়েও রাজধানীতে অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশ না করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিএনপির এমন অবস্থানে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। অনেককেই বলতে শোনা গেছে- ‘কী হবে ২৫ অক্টোবর?’
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে থাকা মানুষের চোখে উদ্বেগের ছাপ দেখা যায়।
বিকালে বন্ধ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রাজধানীর নবাবগঞ্জ রোডের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, সহিংসতার আশঙ্কায় তিনি দোকান বন্ধ রেখেছেন।
“২৫ অক্টোবর দেশে কী ঘটে, তা দেখে দোকান খুলবে। তার আগে দোকান খুলে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
নর্থসাউথ রোডের স্টিলের দোকানের কর্মচারী মো. সেলিম জানান, সকালে দোকান খোলার পর বেলা ২টার মধ্যে তার মালিক দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসা বিএনপি নির্বাচনের দিন গণনা শুরুর প্রথম দিন ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে। ওই সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে।
শর্তসাপেক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। একই দিন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তা না পেলেও রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
২৫ অক্টোবর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই গত ১৮ অক্টোবর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তাতে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর দুদিনের মাথায় বিএনপি চেয়ারপারসন পাল্টা প্রস্তাবে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে তা নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান, যাকে ‘অবাস্তব’ অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
রাজধানীতে যে কোনো মূল্যে শুক্রবার বিএনপির সমাবেশ করার ঘোষণায় বৃহস্পতিবার থেকেই নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান করছে পুলিশ।
অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তায় গাড়ি চলাচল ছিল অনেক কম। সহিংসতার আশঙ্কায় কোথাও দোকানপাটও বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।
রাজধানীর আসাদগেট, নিউমার্কেট, চানখারপুল, প্রেসক্লাব, বঙ্গবাজার, রায় সাহেব বাজার রোড, নর্থ সাউথ রোড, পল্টন, শান্তিনগর, মালিবাগ, মতিঝিল, মহাখালী, এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য মিলেছে।
বিভিন্ন সড়কের মোড়ে চলছে পুলিশের তল্লাশি। মোটরসাইকেল আরোহীদের ব্যাপক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হতে হচ্ছে।
পল্টন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক বজলুর রহমান বলেন, ২৫ অক্টোবর ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ থানা এলাকায় মোট সাতটি অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি কাজ করছে।
এদিকে বুধবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানা ও টঙ্গী থানা এলাকার খুব কাছে কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের পর রাজধানীর প্রত্যেকটি থানা এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন।
সত্যতা মিললো মতিঝিল থানাসহ বিভিন্ন থানায় গিয়ে। সেখানে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ২৫ অক্টোবর ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্ব্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলবে। যেকোনো ধরনের ‘অপ্রীতিকর’ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

শেয়ার