যশোরে শতভাগ স্যানিটেশনে বাধা উপশহর ইউনিয়ন

sanitation
ইন্দ্রজিৎ রায় ॥
যশোর জেলায় শতভাগ স্যানিটেশনের কৃতিত্ব অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ২০শতাংশ মানুষ স্যানিটেশনের বাইরে রয়েছে। জেলার ৯১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯০টি ও ৮পৌরসভায় শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত হয়েছে। শুধুমাত্র উপশহর ইউনিয়ন নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন হাউজিং এর ৬ টি প্লটের কারণে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৯১ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯০টি ও ৮পৌরসভায় শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে। ২০০৩ সালে অক্টোবর মাসকে স্যানিটেশন মাস ঘোষণা করা হয়। এসময় ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে শতাভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর সকল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে ল্যাট্্িরন নির্মাণ উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে স্যানিটেশন কার্যক্রমকে গতিশীল করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের জুন মাসের মধ্যে যশোর জেলার ৯০টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভা শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের প্রজেক্টশনিস্ট (স্যানিটেশন কর্মী) ফিরোজ উদ্দীন জানান, জেলার সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ২০০৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শতভাগ কভারেজ অর্জন করেছে। ২০০৬ সালের জুনে বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ২০০৫ সালের জুনে অভয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে কেশবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ২০০৬ সালের জুনে ঝিকরগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌরসভা এবং ২০০৫ সালে চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা শতভাগ স্যানিটেশনের কাভারেজ অর্জন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়নের গণপূর্ত বিভাগের হাউজিং এস্টেটের ৬টি প্লট রয়েছে। এই প্লটগুলোর বাসিন্দাদের অধিকাংশের পায়খানা প্লটের ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ওই ল্যাকট্রিনের পায়খানা ড্রেনের পানির সাথে মিশে ভৈরব নদী গিয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। একই সাথে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খান ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। এই কারণেই উপশহর ইউনিয়নের শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজগর হোসেন বলেন, এই ইউনিয়নে হাউজিং এস্টেটে ৬ প্লটে রয়েছে। প্লটের বাড়ি নির্মাণের সময় ড্রেনের সাথে অপরিকল্পিতভাবে ল্যাট্টিন নিমাণ করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা নিশ্চিত হয়নি। এজন্য উপশহর ইউনিয়ন শতভাগ স্যানিটেশনের কভারেজ অর্জন করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, শতভাগ স্যানিটেশনের কভারেজ অর্জন আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর আব্দুস সাহিদ বলেন, স্যানিটেশনের কাজ ইউনিয়ন পরিষদ করে থাকে। আমরা কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। ইতোমধ্যে জেলার ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপশহর ইউনিয়ন। একটি ইউনিয়নের কারণে শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজের ঘোষণা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ওই ইউনিয়নের শতভাগ কভারেজ অর্র্জনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার