বিধি মেনে প্রস্তাব আনার আহ্বান তোফায়েলের

tofael
বাংলানিউজ ॥
নির্বাচনকালীন অন্তর্র্বতী সরকারের রূপরেখা নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের আনীত প্রস্তাবটি সুনির্দিষ্ট চিঠি আকারে সংসদে দিলে আলোচনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ।
বুধবার সংসদে বিরোধী দলের প্রস্তাবের পরিপ্রেেিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রস্তাবটি সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে চিঠি আকারে সংসদে দিলে আলোচনা হতে পারে জানিয়ে তিনি বিরোধী দলকে সংসদে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান।
তোফায়েল বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ীই প্রস্তাব আনতে হবে। এর আগে বাজেট অধিবেশনে তাদের একজন সংসদ সদস্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন। কিন্তু আমরা যখন তার ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলাম, তখন তিনি তা তুলে নেন।
এর আগে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবটি তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তোফায়েল বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে সামান্য ভুল হয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন ১৮ জন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা ২০ জন উপদেষ্টার কথা বলেছিলেন।
খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী ওই দুই সরকারের ১৮ উপদেষ্টার মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। ২ জন দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ৪ জন বর্তমানে অসুস্থ। তাহলে ১০ জন কোথায় পাবো? সাবেক স্পিকার বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সংসদে উপদেষ্টাদের নির্বাচিত করার যে কথা বলেছেন, তা কিভাবে সম্ভব? সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও এটা বলেছেন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দল পরাজিত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর ১৪ জুন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ওপর থেকে অবাধ নিরপে নির্বাচন হলেও পুকুর চুরির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা দলকে বিজয়ী করেছে। ভোটকেন্দ্রে ঢুকে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।
২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শপথে যাননি বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। লতিফুর রহমান খালেদা জিয়ার সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলার পর খালেদা জিয়া বলেন, টু থার্ড মেজরিটি পাবো এবং তা তিনি পানও।
তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের পরে পুনরায় সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবটি ছিলো বিরোধী দলীয় নেতার প থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এটা প্রধানমন্ত্রীই বুঝবেন, তিনি বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলবেন কিনা। কিন্তু সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি এখানেই কোজ করতে চাচ্ছেন।
এরপর জমির উদ্দিন সরকারের প্রস্তাবের পে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য এম কে আনোয়ার।
তিনি বলেন, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বানের সাড়া দিয়ে। এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করলে চলবে না।
এম কে আনোয়ারের বক্তব্যে শেষে পাল্টা জবাব দিতে পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে যান শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন আমরা করিনি। সংবিধান সংশোধনে আমরা বাধ্য হয়েছি। জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৭৫ পরবর্তী সব কিছুকে বৈধতা দিয়েছিলেন। আদালত বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণা করলে আমরা সংবিধান সংশোধনে বাধ্য হই।
এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করলে সেলিম বলেন, আপনারা একথা পছন্দ করবেন না। কারণ, সেনানিবাসে আপনাদের জন্ম।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আদালতের নির্দেশনা ছিল আরো দুইবার এ ব্যবস্থা থাকতে পারে, কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ।
এরপর সংসদে পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন দফতরবিহীন মস্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রস্তাব সংসদে দেওয়া হয়, তাহলে তা সংসদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। তাই যে কেউ এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
সুরঞ্জিত বলেন, দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই।
বিরোধী দলের প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা সমঝোতার নয়। আসুন কিভাবে নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা যায়, এটা নিয়ে আলোচনা করি।

শেয়ার