পিস্তল অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে পিস্তল, ধারালো অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ সুজন ওরফে সুমন নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের মেজর এবিএম জাহিদুল করিম অভিযান চালিয়ে শহরের বেজপাড়া তালতলা থেকে তাকে আটক করেন। আটক সুজন শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
কিক শামিমের মা মনোয়ারা মৃধা জানান, কয়েকমাস আগে চৌগাছা এলাকায় তার ছেলে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা হয়। ওই মামলাটি দেখা শুনা করে তার আরেক ছেলে ইভেন। শামিমকে হত্যার সাথে জড়িত শংকরপুর মুরগির ফার্ম এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হবি চৌধুরী ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে। হবি চৌধুরী কারাগারে থাকাকালে ইভেনকে খুন করার জন্য লোক মারফতে একাধিকবার হুমকি দেয়। গত ঈদুল আজহার দু’দিন আগে হবি চৌধুরী জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে ইভেনকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে। আর ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভাড়া করে শংকরপুর টার্মিনাল এলাকার মুরাদ পকেটমারের ছেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জুম্মনকে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ইভেন বেজপাড়া তালতলা সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিতে বসে ছিল। এ সময় গোলপাতা মসজিদ এলাকার আলমগীরের ছেলে ভুট্টোর ব্যবহৃত বিদেশী পিস্তল নিয়ে সুজন ও জুম্মন ইভেনের কাছে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের মেজর এবিএম জাহিদুল করিমের নেতৃত্বে একটি দল সুজনকে আটক করে। আর সন্ত্রাসী জুম্মন পালিয়ে যায়। তবে আটক সুজনের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগজিনসহ উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সুজনের দেয়া তথ্যমতে ভুট্টোর বাড়ি থেকে ২২ টি জদ্দার খালি কৌটা এক কেজি গান পাউডার ও দু’টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। আটক সুজন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মতি মিয়া ওরফে সিডিআই মতি বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক। তার ছত্র ছায়ায় থেকে ভুট্টো, শোভন ওরফে স্বপন সুজনসহ বেশ কিছু যুবক আছে।
এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, ওই এলাকার হবি চৌধুরী ও তার ভাই কবির চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের পোষা সন্ত্রাসী। এক সময়কার দক্ষিন বঙ্গের শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান-মিজানের একান্ত সহযোগী ও ছিল তারা। আর হাসান-মিজানের রেখে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র গুলো হবি-কবিরদের কাছে আছে। যশোরের অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, ধুড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে হবি কবির ।
অপর একটি সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী জাম্মনের সাথে সিডিআই মতির বেশ কিছু দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। যে কারনে মতি মিয়া বর্তমানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জুম্মনকে ধরে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার জন্য বেশ কয়েক দিন ধাওয়া করলেও জুম্মন পালিয়ে যায়। গত তিনদিন আগে মতির নেতৃত্বে জুম্মনকে ধাওয়া করলে পরনের বস্ত্র খুলে পালিয়ে যায়।

শেয়ার