দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় তারা

Binodon
বাংলানিউজ॥ সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু আদৌ কি নির্বাচন হবে? এমন প্রশ্ন সকলেরই। সব দলের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় সকলে। সরকারি দলের প্রস্তাব মেনে নিচ্ছে না বিরোধী দল। আবার বিরোধী দলের প্রস্তাবও মেনে নিচ্ছে না সরকার দল। আর অন্য একটি দল ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল নির্বাচন না করলে তারাও নির্বাচনে যাবে না। তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে। সাধারণ মানুষের মত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষও আছেন উৎকণ্ঠায়। আসুন জেনে নেই তারা কি বলছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
সময় তো ঘনিয়ে আসছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতেই হবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের বড় দুই দলও চায় না কোন রকম সংঘাত হোক। সংঘাত হলে কী লাভ? আরেকটি ওয়ান ইলেভেন নিশ্চয়ই কারোই চাওয়া নয়। বিরোধী দল সমাবেশ করবে। সরকার আবার সভা-সমাবেশ বন্ধ করেছে। যার যার কথা বলার, স্বাধীনভাবে চলার অধিকার আছে। আবার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধ করতে কর্তৃপক্ষও নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। এ নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ভাবনায় দুশ্চিন্তায় আমরা কেউই থাকতে চাই না। আমি বলব আলোচনা আলোচনা এবং আলোচনা-ই পারে বর্তমান পরিস্থিতির একটা সুন্দর সমাধান দিতে। দুই নেত্রী দেশের শান্তির জন্য কোন পদক্ষেপ নিলে সেটা নিশ্চয় আগামীর আদর্শ হয়ে থাকবে।

ফেরদৌস ওয়াহিদ
দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আর সবার মত আমিও উৎকণ্ঠায় আছি। আসলে কী হতে যাচ্ছে? উৎকণ্ঠা ব্যপারটা যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর। যুদ্ধে পক্ষে হোক বিপক্ষে হোক পরিষ্কার একটা পূর্বানুমান করা যায়। কিন্তু উৎকণ্ঠার মধ্যে জানার উপায় নেই আসলে কতটা ভালো বা কতটা ভয়ংকর কিছু হতে যাচ্ছে। এমনিতে গানের মানুষ হিসেবেই চাই দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকুক, অর্থনীতি ভালো থাকুক। তাতে আমাদের পেশাগত লাভ। আর বড় কথা নিজের স্বার্থেই শুধু নয়, দেশের স্বার্থেই একটা স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। যদিও যা কিছু হচ্ছে তার কোন শেষ দেখছি না।

ফকির আলমগীর
প্রথমত, সব দলের অংশগ্রহণে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ একটা নির্বাচিন চাই। দ্বিতীয়ত, দুই নেত্রী যেন জনগণকে না ভুগিয়ে একটা সুন্দর সমঝোতায় আসেন। তবে একটা কথা বেশ জোর দিয়ে বলতে চাই- নির্বাচনই বড় কথা নয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এমন কিছু যেন আগামীতে না ঘটে সে প্রত্যাশা করি। জঙ্গিবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে যেন আমাদের প্রত্যয় অটুট থাকে।

আমাদের দেশে তো এখন আদর্শিক রাজনীতি নাই। আগে দলে দলে লড়াই হতো, এখন ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে লড়াই হচ্ছে। তবে আশার কথা সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে দুই দল। আমি আশাবাদী দুই নেত্রী সুন্দর একট সমাধানে আসবেন। কারণ সমাধান না হওয়া মানেই তৃতীয় শক্তির উত্থান। যেটা ভালো করে জানেন দুই নেত্রী-ই।

আবুল হায়াত
সাধারণ জনগণের মত আমরাও শান্তি চাই। দেশে গণতন্ত্র, স্বৈরাতন্ত্র যে তন্ত্রই আসুক না কেন সেটা যেন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে হয়। সাধারণ জনগণকে বিপদে না ফেলে বর্তমান প্রধান দুই নেত্রী যেন দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নেন এই প্রত্যাশা করেই আমরা তাদের দিকে চেয়ে আছি।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
প্রতিবার সরকার বদলের সময় একই নাটক আমরা দেখতে চাই না। সবাই বলে আলোচনায় আসতে হবে। এ আলোচনা পাঁচ বছর পরে কেন? দুই দলের মধ্যে প্রতি মাসে একবার করে আলোচনা হওয়া দরকার। আর দেশের বর্তমান পরিস্থতির জন্য সবার আগে পরাজয়ের মূল্য কমানো প্রয়োজন। আর এ পরাজয়ের মূল্য কমাতে হলে দেশের আইন আদালত এবং বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করে দিতে হবে। আর দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান চাই।

শেয়ার