খালেদা জিয়ার প্রস্তাব অবাস্তব : প্রধানমন্ত্রী

Hasina
বাংলানিউজ ॥
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অবাস্তব। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াক-আউটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের এই আচরণই প্রমান করেছে তারা আলোচনা চান না।

জাতীয় সংসদে বুধবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় সাংসদরা যোগ দিয়ে খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে সরকার দলীয় এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে অবৈধ উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী এমপিরা ওয়াক আউট করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাবকে অবাস্তব ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে সংসদ অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বক্তব্য রাখছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সংসদে যোগ দেয় বিরোধী দল। জাতীয় সংসদে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের-রূপরেখা প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রস্তাবটি দেন তিনি।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব বিবেচনার অনুরোধ জানান।

এরপরপরই তোফায়েল আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি’র প্রস্তাবকে দঅগ্রহণযোগ্যদ বলে উল্লেখ করে বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রস্তাব দিন, আমরা আলোচনা করবো।

তোফায়েল আহমেদ এ সময় দবিরোধী দল হোমওয়ার্ক না করেই একটি প্রস্তাব এনেছেদ উল্লেখ করে বলেন, ১০ জন উপদেষ্টা পাওয়া যাবে না ‘৯৬ ও ২০০১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে।

‘৯৬ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনকে বিএনপি চেয়ারপার্সন যে দপুকুর চুরিদবলেছিলেন, সেকথাও সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এরপর জমির উদ্দিন সরকার তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য খণ্ডন না করে বলেন, প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনিই কথা বলবেন।

এরপর বিএনপি’র বর্ষীয়ান নেতা এমকে আনোয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি দআওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে এই সঙ্কট তৈরি করেছেদ বলে অভিযোগ আনেন।

এমকে আনোয়ারের পর ফোর পান শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি সংসদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করেনি। জাতীয় সংসদ তা করেছে। এসময় তিনি ৫ম সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনে এনে জিয়াউর রহমানের সরকারকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।

ফজলুল করিম সেলিমের এই বক্তব্য শুনে বিএনপি ও বিরোধী দলীয় এমপিরা কোনো বক্তব্য না দিয়েই সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।

বিরোধী দলীয় এমপিরা ওয়াক-আউট করার পর এবিষয়ে বক্তব্য রাখেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ কয়েকজন। সুরঞ্জিত বিরোধী দলীয় এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানে যাওয়া সংসদ সদস্যদের জন্য অসম্ভব হবে। তবে আলোচনা অবশ্যই করা যাবে। বিধি মোতাবেক প্রস্তাবটি এলে আমরা অবশ্যই আলোচনা করবো।

পরে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে সংসদ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী।

শেয়ার