কম মূল্যে ইরানি তেল!

Iran oil
সমাজের কথা ডেস্ক॥
পশ্চিমা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে এ ধারণা থেকে মূল্য কমিয়ে পুরনো ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর তাই পুরনো ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে দেশটি।
এক বছর আগে ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপকালে বিশ্ববাজারে তেলের যে পরিমাণ চাহিদা ছিল বর্তমানে তা আর নেই। তাই মূল্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার ধরার চেষ্টা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

মঙ্গলবার ইরানের জাতীয় তেল কোস্পানির প্রধান মোহসেন ঘামসারি বলেছেন, “নতুন পরিস্থিতিতে, ইরানের পুরনো ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই ইরান থেকে পুনরায় তেল আমদানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

“স্বাভাবিকভাবেই, বিশ্ববাজারে ইরানি অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে তেলের মূল্য হ্রাস পাবে। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে ৩০ শতাংশ কম,” ইরানি বার্তা সংস্থা সানাকে বলেন তিনি।

গত মাসে জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির বক্তব্য, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঐতিহাসিক ফোন কল সব মিলিয়ে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান আবার ফিরে আসছে এমন একটি ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছে।

পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ করছে এমন সন্দেহ থেকে গত বছর ইরানের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিজেদের পরমাণু কর্মসূচীকে ইরান শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসলেও পশ্চিমারা তাতে কান দেয়নি।

২০১২’র মাঝামাঝি থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অর্ধেকেও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

বর্তমানে ইরানি তেল কেনে মাত্র পাঁচটি দেশ। এরা হলো চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে এক ডজনেরও বেশি দেশ ইরানি তেলের ক্রেতা ছিল।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সবদেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। আর আগে থেকেই প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল কেনা বন্ধ রেখেছে।

বিশ্ব বাজারে ইরানি তেল সরবারাহ অর্ধেক হয়ে যাওয়া, লিবিয়ার তেল রপ্তানিতে অচলাবস্থা, ইরাক ও নাইজেরিয়ার তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটা সত্বেও বিশ্ব বাজারে তেলের সঙ্কট বা মূল্য বৃদ্ধি কোনটাই ঘটেনি। তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ৯০ থেকে ১২০ ডলারের মধ্যেই থেকেছে।

তেলের মূল্যের এই স্থিতিশীলতার প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবও তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

এসব দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির বিপরীতে এশিয়ায় ও ইউরোপে তেলের চাহিদা পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।

এসব মিলিয়ে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ ও চাহিদায় ভারসাম্য বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ইরান তার তেল নিয়ে বিশ্ব বাজারে প্রবেশ করলে তেলের মূল্য এমনিতেই পড়ে যাওয়ার কথা। তাই সবকিছু বুঝেশুনেই আটঘাঁট বেঁধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

তবে সব কিছুর পরও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে এমন আশা অল্প জনই করছেন বলে জানিয়েছে পশ্চিমা জ্বালানি বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যানার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

আইইএ বলেছে, যে সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোর বিষেয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগবে তাই বেশিরভাগ কূটনীতিকের ধারণা, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদার হবে।

শেয়ার