আগ্রহ হারাচ্ছে উদ্যোক্তারা ॥ যশোরে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের ৩৫ কেন্দ্র বন্ধ

Union infor
নিজস্ব প্রতিবেদক॥
ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের (ইউআইসি) মাধ্যমে বিল পরিশোধের কেন্দ্র চালাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তরা। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকার সদর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা ও বাঘারপাড়া উপজেলার ৫৭ টি ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের অনলাইন বিদ্যুৎ বিল প্রদান কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২২টি চালু ও বন্ধ আছে ৩৫টি কেন্দ্র। এরমধ্যে ৫টি চালুর পর বন্ধ ও বাকী ৩০টি কেন্দ্র চালু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। চলতি বছরের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় ইউ আইসি’র উদ্যোক্তারা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। উদ্যোক্তরা অভিযোগ করেন, সফটওয়ার জটিলতা, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অসদাচরণ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতার অভাবে ইউআইসি জনপ্রিয় হচ্ছে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক জহুরুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জাহিদ হোসেন পনির, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান, অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সফটওয়ার নির্মাতা মোস্তফা আশীষ ইসলাম দেবু, ৫ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এছাড়া ৫ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নানা বিড়ম্বনার শিকার কথা সভায় তুলে ধরা হয়। বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা সেলিম রেজা বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় উদ্যোক্ততাদের সার্ভার বন্ধ রাখা হয়। এজন্য তারা ঠিক সময়ে বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে পারে না। এতে তাদেরকে জরিমানার শিকার হতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা নিজেদের প্রয়োজনের তাদের সার্ভার চালু রাখেন। বাঘাপারপাড়া উপজেলার দোহাখোলা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ওবাইদুর রহমান রিয়াদ অভিযোগ করেন, গ্রাহকের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
তিনি জানান, তার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৩৫০-৪০০জন গ্রাহক প্রায় ১ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকে। এজন্য তিনি বিল প্রতি ৫ টাকা হারে আদায় করেন। তবে আদায়কৃত টাকা জমাদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
শার্শা, ঝিকরগাছা, ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন ইউআইসি উদ্যোক্ততা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ বাজার সংলগ্ন হওয়ায় গ্রাহকরা ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আবার কিছু কিছু ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামের ভিতরে থাকায় মানুষ আসতে চাই না। এজন্য সুবিধাজনক স্থানে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করতে তেমন কোন সহযোগিতা পায় না। ফলে গ্রাহক না পেয়ে অনেকেই এ খাত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তাদের সাথে সভা করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। একই সাথে বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহনেরও নির্দেশ দেন।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, এখানে নতুন যোগদান করেছি। সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
অপরদিকে,যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অঞ্চলের ৩টি উপজেলায় অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ প্রসঙ্গে সভায় জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পবিস-২ জেনারেল ম্যানেজারের ওপরই নির্ভর করছে চালুর বিষয়টি।

শেয়ার