যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সেবিকাদের ইসিজি বাণিজ্য

ecg machine
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চলছে ইসিজি বাণিজ্য। খোদ হাসপাতালের সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়রা এ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তারা হাসপাতালের রোগীদের বেসরকারি কিনিকে পাঠিয়ে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নীরব।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগী বাগিয়ে ইসিজি করতে ব্যস্ত রয়েছে সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়রা। অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে ইসিজি এখন বাণিজ্যের শীর্ষ স্থানে রয়েছে। হাসপাতালে ইসিজি করতে মাত্র ৮০ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু বাইরের কিনিক থেকে ৩শ’ টাকার বিনিময়ে রোগীদের ইসিজি করাতে বাধ্য করছেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। আর ওই কিনিক থেকে ইসিজি প্রতি ২শ’ টাকা কমিশন গ্রহণ করছেন। প্রতিদিন হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়রা রোগীদের হাসপাতালের ইসিজির মান খুবই খারাপ বলে কিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আবার ৮০ টাকার ইসিজি ৩০০ টাকার বিনিময়ে কিনিক থেকে করেও তার সুফল পাচ্ছে না রোগীরা। কেননা হাসপাতালে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে ইসিজি করানো হলেও বাইরের কিনিক থেকে রোগীরা ব্যাটারি চালিত মেশিনে ইসিজি করছে। এতে ইসিজি রিপোর্টের মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। বেশি রেটে ইসিজি করানোর পরেও রিপোর্টে রোগের সঠিক নির্দেশনা আসছে না।
সোমবার বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয় শহরতলীর শংকরপুর এলাকার রাধা রানী (৪৫)। ভর্তির পর জরুরি বিভাগ থেকে তাকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত সেবিকা রীনা জরুরি ভিত্তিতে ইসিজি করানোর জন্য ওই রোগীকে জেস কিনিকে পাঠিয়ে দেয়। পরে ৩০০টাকার বিনিময়ে তিনি সেখানে ইসিজি করতে বাধ্য হন।
এছাড়া ২০ অক্টোবর বেজপাড়ার রিপন হোসেন নামে এক রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতাল থেকে ওয়ার্ড বয়রা তাকে ফুসলিয়ে বাইরে কিনিকে নিয়ে যায়। একইভাবে তার কাছ থেকে ৩০০টাকা নিয়ে ইসিজি করানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন একইভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের ইসিজির মান খারাপ বলে বাইরে কিনিক থেকে ইসিজি করানো হচ্ছে। বাইরের কিনিক থেকে করানো ৩০০ টাকার ইসিজির একটি অংশ সেবিকা ও ওয়ার্ড ইনচার্জরা গ্রহণ করে থাকে।

শেয়ার