সাকিবের ৩ উইকেটে লড়াইয়ে বাংলাদেশ

Bangladesh
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফুলটনকে এলবিডব্লিউ করার পর সাকিবকে ঘিরে বাংলাদেশ দলের উচ্ছ্বাস। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সকালের সেশনে মাত্র ২৮২ রানেই অলআউট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনশেষে লড়াইয়ে রেখেছে সাকিব আল হাসানের তিন উইকেট।
ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা-পানের বিরতি নেয়া হয়। এর পর বৃষ্টি বাড়তে থাকায় আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বেলা সাড়ে তিনটার সময় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৭ রান। সাত উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৫ রানে পিছিয়ে আছে অতিথিরা। রস টেইলরের (৩৭) সঙ্গে অপরাজিত আছেন কেন উইলিয়ামসন (২৮)।
সাকিবের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারায় নিউ জিল্যান্ড।
অভিষিক্ত পেসার আল-আমিন হোসেনের বদলে ত্রয়োদশ ওভারে বদলি বোলার হিসেবে বল করতে এসেই সাফল্য পান সাকিব। সেই ওভারের শেষ বলে শর্ট লেগে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় হামিশ রাদারফোর্ডের ক্যাচ ধরেন মমিনুল হক।
পরের ওভারে দ্বিতীয় বলে সাকিব ফেরান আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পিটার ফুলটনকে। বলের লাইন বুঝতে না পেরে ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ফুলটন।
এর পর পেসার রুবেল হোসেনের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কেন উইলিয়ামসন।
চা-পানের বিরতির কিছু আগে সাকিবের খাটো লেন্থের বল পুল করে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ম্যাককালাম।
সীমানার চেয়ে বেশ এগিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রুবেল। বল মাথার ওপর দিয়ে সীমানার যাওয়ার সময় পেছন দিকে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচটি নেন তিনি। এই আউটের পর আবার মাঠে নেমেছেন উইলিয়ামসন।
সোমবার বৃষ্টির কারণে তৃতীয় সেশনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার আধ ঘণ্টা আগে সকাল নয়টায় খেলা শুরু হয়। ৫ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ৫৪ রান যোগ করতেই শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ব্রুস মার্টিনের বদলে এই টেস্টে ফেরা বাঁহাতি পেসার নিল ওয়াগনার ও আগের টেস্টেই অভিষেক হওয়া লেগ স্পিনার ইশ সোধিকে ঠিকভাবে সামলাতে না পারায় ৫ উইকেট হাতে নিয়েও দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের পুরোটা টিকতে পারেনি স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে অন্তত চারশ’ রান করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান জুটি মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনের দিকে। দুজনই স্বাগতিকদের ভীষণভাবে হতাশ করেছেন।
শুরুতে মনোসংযোগের পরীক্ষা দেয়া মুশফিক (১৮) ওয়াগনারের অফস্ট্যাম্পের বাইরের একটি বল তাড়া করতে গিয়ে গালিতে পিটার ফুলটনের ক্যাচে পরিণত হলে প্রথম সাফল্য পায় নিউ জিল্যান্ড। এরপর মাত্র ৫৩ বল স্থায়ী হয় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।
৬ রান পর সোধির লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে স্লিপে টেইলরের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন আরেক ব্যাটিং ভরসা নাসির (১৯)।
আগের টেস্টেই নবম উইকেটে শতরানের জুটির উদাহরণ অনুসরণ করেননি সোহাগ গাজী, আব্দুর রাজ্জাকরা। পাল্টা আক্রমণ করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তারা। দ্রুত সাজঘরে ফিরে মাশুল দিতে হয় তাদের।
চট্টগ্রাম টেস্টে শতক করা সোহাগ ওয়াগনারের বলে একটি করে ছক্কা ও চার হাঁকালেও তার বলেই গালিতে কেন উইলিয়ামসনের হাতে ধরা পড়েন।
সোধিকে ছক্কা হাঁকানো রাজ্জাকও তার বলেই বোল্ড হয়ে বিদায় নেন।
এর আগে রুবেল হোসেনকে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের ক্যাচে পরিণত করে ৯ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নেন ওয়াগনার। ৬৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই নিউ জিল্যান্ডের সেরা বোলার। লেগ স্পিনার সোধি ৩ উইকেট নেন ৫৯ রানে।
প্রথম দিনের খেলা শেষে রস টেইলর বলেছিলেন, ৮০ ওভারে দ্বিতীয় নতুন বলের সুবিধা নিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করতে চান তারা। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতেই হয়নি, ৭৪.৫ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২০৮। সেখান থেকে হিসেব করলে স্বাগতিকদের শেষ ৭ উইকেটে পড়েছে মাত্র ৭৪ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৮২ (তামিম ৯৫, এনামুল ৭, মার্শাল ৪১, মমিনুল ৪৭, সাকিব ২০, মুশফিক ১৮, নাসির ১৯, সোহাগ ১৪, রাজ্জাক ১৩, রুবেল ৪, আল-আমিন ০*; ওয়াগনার ৫/৬৪, সোধি ৩/৫৯, অ্যান্ডারসন ১/১৪, বোল্ট ১/৫৫)

নিউ জিল্যান্ড: ১০৭/৩ (ফুলটন ১৪, রাদারফোর্ড ১৩, উইলিয়ামসন ২৮*, টেইলর ৩৭*, ম্যাককালাম ১১, সাকিব ৩/২৫)

শেয়ার